না এখানে কোনো বিশাল বৃহৎ প্যান্ডেল এর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না খুব বেশি আলোর রোশনাই। অস্থায়ী ভাবে পুজোর ব্যবস্থা ও করতে হয় না। কারন এখানের পুজো রোজ ই হয়। তবে দীপান্বিতা বা কালীপুজোর দিন নিজে নিজেই পুজোর মহল তৈরি হয়ে যায়। আগমন হয় ভক্তদের। কেউ ডালি হাতে পুজো দিতে ব্যস্ত। কেউ বা আবার মনোসকামনা বৃক্ষে পাথর বাঁধতে ব্যস্ত।
হ্যাঁ। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের ঘাঘর বুড়ি মন্দিরের এটাই বিশেষত্ব বলা যেতে পারে। রোজ নামচার হিসেবে সন্ধ্যে বেলায় মন্দির বন্ধ হয়ে গেলেও দীপান্বিতা তে মন্দির বেশ কিছুক্ষণ খোলা থাকে । থাকে ভক্তদের ঢল। তবে এবার যেন একটু অন্যরকম। করোনার আবহে মানুষ যেন চিন্তিত। মন্দিরে ও সে রকম একটা ভিড় নেই। তবে অন্যান্য জায়গার থেকে বেশি ভক্তদের আগমন হয়েছে বলেই সেবাইত দের দাবি।
আসানসোলের এই মন্দিরের দেবী যথেষ্ট ই জাগ্রত। কারন শুনলে অবাক হতে হয়। মা ঘাঘর বুড়ির ইতিহাস এক কথায় বলে সম্ভব ই নয়। বহু ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরে। রয়েছে অনেক গল্পকথা। তবে এখানকার সেবাইত জানান..মন্দিরের বয়স প্রায় 370 বছরের বেশি। এই মায়ের আশীর্বাদ পেয়ে ধন্য হয়েছেন অনেকে। শুরুতে নিঃসন্তান রা এখানে আসতেন সন্তান লাভের আশায়। মায়ের কাছে পুজো দিতেন অবশ্য ই। তা ছাড়াও মন্দির থেকে জৈব ওষুধ সংগ্রহ করে, তাবিজ কবজ গ্রহণ করার পর অনেকেই সন্তান লাভ করেছেন। তারপর থেকেই বিস্বাস বেড়েছে।
নিঃসন্তানের সন্তান লাভ
ছড়িয়ে পড়েছে মন্দিরের নাম। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের আগমন শুরু হয়। তারপর শুধু সন্তান লাভ ই নয়…বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ আসেন । সফল ও হন। মন্দির চত্বরে রয়েছে মনোসকামনা বৃক্ষ। সেখানে মনোসকামনা পূরণের লক্ষে ভক্তরা পাথর বেঁধে যান। পূরণ হলে পুজো ও দেন।
এমন ই এক পুজোর মুহূর্ত আমরা দেখাব। করোনা কালে সম্পুর্ন নিয়ম নীতি মেনে পুজো হচ্ছে। লাইন দিয়ে ভক্তরা দাঁড়িয়ে আছেন। মুখে মাস্ক। সময়ে সময়ে সেনিটাইজ করা হচ্ছে। অল্পসংখ্যক ভক্তদের এক একবারে পুজো দিতে দেওয়া হচ্ছে। দেবী যেন অবিচল। ভক্তরা যেন মায়ের কাছে তাদের চাওয়া উপস্থাপিত করছেন। আসুন দেখে নি ঠিক কি ভাবে এখানে পুজোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত..বাহ্যিক রূপ বা আলোর ঝলকানি এখানে বড় কথা নয়। আস্থা ই এখানে সব। কলকাতা অথবা ঝাড়খন্ড থেকে আসার পথে বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তের আসানসোলের জাতীয় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা মন্দির যেন আজ ভারত বিখ্যাত। গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে তার নাম। ডাকলেই যাকে পাওয়া যায়…মন থেকে চাইলেই মনোসকামনা পূরণ হয়…এমনটাই আস্থা বিশ্বাস মানুষের। আর সে টানেই ছুটে আসেন ভক্তরা। এমনটাই বক্তব্য সেবাইত দের।

