Friday, April 24, 2026

অসাধ্য সাধন, প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছট পুজো কে নতুন ভাবে বৃহৎ আকার দিলেন সমাজসেবী কৃষ্ণা প্রসাদ

প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছট পুজো কে নতুন ভাবে বৃহৎ আকার দিলেন সমাজসেবী কৃষ্ণা প্রসাদ। বিগত কয়েকদিন আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে ভাবে গ্রাস করেছিল শিল্পাঞ্চল কে তাতে করে মনে হয়েছিল আসানসোলের প্রভু ছট ঘাট বা কাল্লা ছট ঘাটে এ বার পুজো হবেই না। কিন্তু অসাধ্য সাধন করে দেখালেন সমাজসেবী কৃষ্ণা প্রসাদ। নতুন করে ঘাট সাজালেন। ভেঙে যাওয়া এলাকা ভরাট করলেন মাটি দিয়ে। ভক্তদের সুবিধার্থে সকল ব্যবস্থাই করলেন।

শুধু তাই নয়। মূল আকর্ষণ হিসেবে বেনারস এবং কাশি থেকে সাধু সন্তদের আনার ব্যবস্থাও করলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় …ঋষিকেশ থেকে এনেছেন 1 লক্ষ 1 টি জলের বোতল। যা অমৃত হিসেবে দেওয়া হবে সকল ভক্তদের সকল ঘাটে। এর সঙ্গে রয়েছে আরো নানা সামগ্রী।

কৃষ্ণা প্রসাদ জানান ..বিগত 44 বছর ধরে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের প্রভু ছট ঘাটে পুজো হচ্ছে। বিগত 15 বছর ধরে চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। মা যা দেন তাতেই এই বিশাল পুজো হয়। অবশ্য ই মন্ত্রী মলয় ঘটক বা প্রশাসক অমর নাথ চট্টোপাধ্যায় এর আশ্বাসের হাত রয়েছে। তবে তা প্রয়োজন হয়নি এই ঘাটে। তাদের নির্দেশ মেনে এবং তাদের কেও পরিবারের সদস্য হিসেবে রেখে একসাথে পুজো পার করতে চান তিনি।

অক্সিজেন যোগানে ইস্পাত মন্ত্রক

সেই প্রচেস্টায় সেজে উঠেছে গোটা এলাকা। 50 জনের টিম একসাথে কাজ করছে। কোথাও নদী পরিষ্কার, কোথাও প্যান্ডেল তৈরি আবার কোথাও সামগ্রী বিতরণের জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত মাত্র কয়েকদিন আগেই ব্যাপক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল শিল্পাঞ্চল। জলে ডুবে গিয়েছিল ঘাঘর বুড়ি মন্দির। জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছিল জলের তলায়। জলমগ্ন হয়েছিল কাল্লা রোড। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল আসানসোল বারাবনির। ভেঙে গিয়েছিল ছোট ঘাট সংলগ্ন রাস্তা।

অসাধ্য সাধন, প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছট পুজো কে নতুন ভাবে বৃহৎ আকার দিলেন সমাজসেবী কৃষ্ণা প্রসাদ

পুজোর আগে আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন ও রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে ঠিক করা হয় সেতু ও রাস্তা। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে উক্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ছট ঘাট নিয়ে। তবু মায়ের আশীর্বাদ এবং সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। সেজে উঠেছে কাল্লা ছট ঘাট এবং প্রভু ছট ঘাট। জাক জমক করেই ভক্তরা পুজো দেবেন। ভক্তদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্য প্রতিদিন 5 কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

জল দেওয়া হচ্ছে রীতিমত। সূত্রের খবর ..আসানসোলের এই ছট পুজো দীর্ঘ 44 বছরের। একটা সময়ে জনগণের কাছে চাঁদা ও নেয়া হত। কিন্তু বিগত 15 বছর ধরে চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সমাজসেবীর কথায় মায়ের দেওয়াতেই দিনে দিনে বেড়েছে পুজোর কলেবর। আসেন সবাই। পুজো ও হয় ব্যাপক। তবে এবারের আকর্ষণ লক্ষাধিক জলের বোতল জক আনা হয়েছে ঋষিকেস থেকে। হবে আরতি ও।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles