বেসরকারি কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা..3 জনের মৃত্যুর খবর..আহত 1, কেউ কি ভেবেছিল নিখোঁজ হয়ে যাবে দিলীপ, শিবসঙ্কর বা তন্ময় রা ? কেউ কি ভেবেছিল অচিনলোকে পাড়ি দিতে হবে তাদের ? প্রতিদিন ই তো কাজে আসত তারা! কেউ নিকটবর্তী হরিশপুর বা কেউ সুদূর বাঁকুড়া থেকে। হটাৎ ই ঘটে গেল নির্মম ঘটনা। কাজে এসে আর হয়ত বাড়ি ফেরা হল না। বাড়ির লোক বা পরিবারের অপেক্ষা অপেক্ষা তেই পরিণত হল ? কিন্তু কেন এমন হল ? কে নেবে দায়ভার। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস সকলের ই। চলছে আন্দোলন। চলছে উদ্ধার কাজ। তবু যেন তন্ময় বা শিবসঙ্কর এর পরিবার দিশে হারা।
মধ্য রাত্রে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জের মঙ্গলপুর এলাকার শ্যাম সেল কারখানায় ছাইয়ের ট্যাঙ্কি (শ্যালো) ভেঙে চাপা পড়ে 3 শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছাড়ায়। জানা যায় উক্ত কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্ট এর চাই দীর্ঘদিন ধরে জমা হত এক জায়গায়। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছাই জমা হওয়া চৌবাচ্চা হটাৎ ই ভেঙে পড়ে। সেই মুহূর্তে কর্মরত শ্রমিক রা চাপা পড়ে যায়। মোট চারজনের চাপা পড়ার ঘটনা ঘটলেও একজনকে কে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আদৌ কি ফিরবে ওরা
বাকি তিনজনের এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে দু জন বাঁকুড়ার বাসিন্দা এবং একজন পশ্চিম বর্ধমানের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে এলাকায়। আনা হয়েছে ডোজার। ছাই সরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রয়েছে পুলিসব দমকল কর্মীরা। উদ্ধারকারী দল ও চেষ্টা চালাচ্ছে।
কারখানার কর্মীদের বক্তব্য… দীর্ঘদিন ধরে পাওয়ার প্ল্যান্ট এর ছাই জমা হাত এই জায়গায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল। জল লেগে লেগে পিলার হালকা হয়ে গেছিল। হটাৎ ই ভেঙে পড়ায় দুর্ঘটনা। ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কেই দায়ী করেছেন কর্মীরা।
আদৌ কি ফিরবে ওরা
প্রসঙ্গত, বার বার ই বেসরকারি কারখানায় এই রকম দুর্ঘটনার খবর উঠে আসে। কখনো বয়লার তো কখনো শ্যালো। রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাব এর অভিযোগ অহরহ। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ ও উঠে আসে। চলে আন্দোলন। পরিবারের ক্ষতিপূরণ। তবু বদলায় না ছবি। কর্মীদের নিরাপত্তার অভাব যেন থেকেই যায়। যে জায়গায় ঘটনা ঘটেছে তার ভগ্নদশা নিশ্চই অজানা ছিল না কর্তৃপক্ষের। এমন টাই অভিযোগ কর্মীদের। আগামীদিনেও কারখানা চলবে। উৎপাদন হবে। বিক্রি ও হবে। লাভের মুখ দেখবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কি হবে পরিবার গুলোর। শুধু ই ক্ষতিপূরণ। আদৌ কি ফিরবে তারা !

