এ পাড়ায় গেলে মহিলারা হাতজোড় করে বলেন ” একটু বাড়ির ব্যবস্থা করে দিন বাবু, শৌচাগার ও নেই গোটা এলাকায়, লক্ষীর ভান্ডারে ও অসুবিধা ,আমরা মানুষের মত বাঁচতে চাই ” শুনলে অবাক হতে হয়। আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অন্তর্গত এক পাড়া। যেখানে 100 পরিবারের বাস। অথচ নেই একটাও শৌচাগার। এখনো ব্যবহার করতে হয় পুকুর বা জঙ্গল। জীবন,
যুবতী বা বয়স্কা মহিলা অথবা পুরুষদের ভরসা জঙ্গল বা পুকুর পার। না লজ্জা নিবারণের জন্য ছোট প্লাস্টিক আর বাঁশ দিয়ে নিজের বাথরুমের ব্যবস্থা করেছে বটে। কিন্তু তা আর কতজনের ? এমন ই অবস্থায় রয়েছে আসানসোলের নোরসমুদা গ্রামের আদিবাসী পাড়া। এ তো গেল শৌচাগারের কথা। নেই বসবাস যোগ্য বাড়ি ও। টালি দিয়ে জল পরে। চার বাই ছয়ের ঘরে রান্না, খাওয়া, আসবাব সাথে 4 বা 5 জনের পরিবার। বর্ষার সময় তো নাজেহাল অবস্থা। ভেঙে পড়ছে ঘরের দেওয়াল ও।
শুধু ই না পাওয়ার বেদনা। টালির ঘরের উপর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে জল আটকায় বাসিন্দারা। হ্যাঁ এ চিত্র আসানসোলের এক বাউড়ি পাড়ার। বাউড়ি পাড়া আর চাস পাড়ার মাঝে রয়েছে এক পুকুর। পুকুর এর ওপারের দৃশ্য ঝলমলে হলেও এ পার যেন অন্ধকার। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে নেতা নেত্রী কেউ ফিরে তাকায় না এদের দিকে। এমনটাই অভিযোগ।
দুর্বিষহ জীবন, একটু বাড়ির ব্যবস্থা করে দিন
সরকারি সুবিধা ? তাতেও বাধা। বাউড়ি সমাজে জাতি সংসা পত্রের অভাবে মিলছে না লক্ষীর ভান্ডার। যেখানে 1000 টাকা পাবার কথা সেখানে কেউ 500 টাকা পেলেও কেউ আবার পাচ্ছেন ই না। লোকের বাড়ি কাজ কোরে রোজগার এই সমাজের মহিলাদের। ছেলেদের চাকরি নেই আবার কারোর স্বামী নেই। আয়ের উৎস বন্ধের মুখে। না এখানকার মহিলারা অভিযোগ করেন না। জানায় তাদের দুঃখের কথা।
COAL SCAM BREAKING ..বিকাশ মিশ্র আসানসোলে
কখনো কখনো জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে চিৎকার করেন। নিজের কথা বলতে চান। আবার ফিরে এসে এক ই সমস্যার সম্মুখীন হন। ওদের হয়ে বলার লোক আছেন। বলেন ও। বহুবার বলেছেন। কিন্তু তাও বদলায় নি টালির বাড়ি। মাটির দেওয়াল। হয়নি শৌচাগার। মহিলারা শুধু চিৎকার করেন আর মুখ্যমন্ত্রী কে জানাতে চান যে তারাও মানুষের মত বাঁচতে চান। কিন্তু তাদের আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন কে ?

