মঞ্চে চাপতে দেওয়া হয় না , অন্ধ বাপিকে। যদি বলে ফেলে না পাওয়ার কথা, রাজনৈতিক নেতা শুধু লক ডাউনের বাহানা দেয়। হতাশ ভাবে বসে আছে ছেলেটি। বাড়ির দরজায় বসে কি যেন ভাবছে। কাছে না গেলে বোঝার উপায় নেই যে সে দেখতে পায় না। শক্ত সমর্থ চেহারা। কাজ করার ক্ষমতা আছে। কিন্তু দুটো চোখ ই অকেজো। কাছে যেতেই বলে ফেলল সব। বলল ক্ষোভ দুঃখের কথা। পাশের লোক না বললে অথবা বিছানায় বৃষ্টির জল না পড়লে সে বুঝতেই পারত না যে তার ঘর ভাঙতে বসেছে। অনেকের ই বাড়ি দিয়েছে সরকার। না সে পায়নি। পেয়েছে একটি রেশন কার্ড। তাও আবার বড়। যাতে শুধু 2 কিলো চাল পাওয়া যায়। পেনশন পায় 1000 টাকা। তার আবার অনেকটাই চলে যায় বিদ্যুৎ বিলে। মিটিং এ যেতে হয়। কিন্তু মঞ্চেও তাকে উঠতে দেওয়া হয় না তাকে। পাছে সব বলে দেয়। এমনটাই অভিযোগ তার। চেয়েছি
সম্পূর্ন খবর দেখতে – ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন Tsnm news
সরাসরি বললেন আট বছর ধরে উত্তর আসানসোলের ব্লু ফ্যাক্টরি
ঘর ভেঙেছে অন্ধ বাপির। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদ ও। তাও হয়ত বুঝতে পারবে না বাপি মন্ডল। ঘরের এ পাস ও পাস , ছাদের টালি একটু একটু করে ভাঙছে। কিন্তু প্রতিবেশীরা না বললে বোঝার উপায় নেই। কারণ 30 বছরের বাপির দুটি চোখ ই অকেজো। তবু ও কিছুই জোটেনি বাপির কপালে। বাড়ির ছাদের কোন কোন দিয়ে যেমন সূর্যের রশ্মি ঢোকে সে রকম জল ও পরে। আর জল পড়লে বাপি হয়ত বোঝে ছাদ ভাঙছে। তবু ও না পাওয়ার বেদনা বাপির চোখে মুখে। স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রতি গুরুতর অভিযোগ। কাউন্সিলর নাকি কোনো মিটিং এই তাকে মঞ্চে উঠতে দেয় না। পাছে সে না পাওয়ার কথা বলে ফেলে। রেশন কার্ড ও আছে। কিন্তু তাকে বড় রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে শুধু 2 কিলো চাল পাওয়া যায়।
আর কিছুই নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে বাড়ির কাজ আটকে আছে। কারোর কোনো হেলদোল নেই। আয় মাত্র পেনসানের হাজার টাকা। তার ও আবার অনেকটাই বিদ্যুৎ বিলে চলে যায়। চোখ অকেজো। তাই কাজ করতে পারে না। নাহলে কাউন্সিলরের কাছে ভিক্ষা চাইবার দরকার পড়ত না। ক্ষোভে দুঃখে এমনটাই বলল অন্ধ বাপি। শুধু বাপি ই নয়। অভিযোগ করতে ছাড়লেন না বাপির বোন রুপা। সরাসরি বললেন আট বছর ধরে উত্তর আসানসোলের ব্লু ফ্যাক্টরি এলাকায় থেকে সরকারি ঘর পেল না তার ভাই। সাড়ে 3 বছর ধরে আটকে রয়েছে কাজ। লক ডাউন এর বাহানা দিচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তিনি আরো অভিযোগ করেন- তাদের পরে আসা পয়সাওয়ালা লোকেদের সরকারি ঘর হয়ে যাচ্ছে। আর তাদের মিটিং এই শুধু নিয়ে যায়। মঞ্চে চাপতে দেওয়া হয় না। পাছে না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পায়।
Read More – কয়লাকান্ড গ্রাউন্ড রিয়ালিটি
কি চেয়েছি আর কি যে পেলাম
অন্ধ বাপি দেওয়াল ধরে ধরে নিজের ঘরে ঢোকে। কোনোমতে খাবারের যোগান হয়। সরকারি হাজার টাকার পেনসনে দিন গুজরান করে আর রেশন কার্ড আর আধার কার্ড কে সঙ্গী করে আফসোস করে – চোখ ঠিক থাকলে কাজ করতাম- কাউন্সিলরের কাছে ভিক্ষা চাইতে হত না।

