তৃনাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় – জীবন যখন ” যাযাবর ” ভূমিকা যখন ” রানার ” না লেখার ক্ষমতা নেই। হাত কাঁপছে ই অবশ্য ই। একে একে করোনার গ্রাসে সাংবাদিকরা। উত্তর 24 পরগণার অলোক, কলকাতার উদয়ন দা, আসানসোলের সঞ্জীব জি, দিল্লির রোহিত জি, কলকাতার অঞ্জন দাদা। আসানসোলের ভূমিপুত্র উ। আরো আছে। আরো আছে। বন্ধু, দাদা, ভাই, অনেকে কেই হার মানতে হচ্ছে বিধাতার কাছে। মরণ !!!
জানেন তো, মরণ কথাটা সাংবাদিক জীবনের এক চরম সত্য। ঝড়, জল, রৌদ্র কে উপেক্ষা করে খবর সংগ্রহের পর ও ” মরণ” । খবরের পর ই কারোর লাল চোখ অথবা কারোর ভালোবাসা। যদি ভালোবাসা টা প্রায় অদৃশ্য। সত্যি কথা বলতে কি …বাড়ি থেকে বেরোতেই হয় জীবন হাতে নিয়ে। ফিরবে কি না জানে না বাড়ির লোক। ঘটনাও ঘটে তাই।
বলুন দেখি, যদি সাংবাদিক রা খবর সম্প্রচার না করে তাহলে মানুষ জানবে কি করে ? করোনা কে সঙ্গী করে করোনার খবর পৌঁছে দেয় ঘরে ঘরে। কিন্তু তার খবর কে রাখে ?
করোনা । ভাষাহীন যন্ত্রনা, একে একে করোনার গ্রাসে সাংবাদিকরা।
না। জীবন মৃত্যু কে সঙ্গী করে এই পেশার লোকেরা ” খায় রাজপথে, মরে ফুটপাথ এ “। এ এক কোন পথে এগোচ্ছি আমরা ? কে করবে বিশ্লেষণ ? কে জানাবে আগাম হতে পারার পূর্বাভাস। চলে যাচ্ছে একের পর এক। চলে যাচ্ছে এক এক ভাবনা। চলে যাচ্ছে এক একটা বিশ্লেষণ। যেতে সবাইকেই হবে। প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু যারা সাবধানতার বাণী শোনাচ্ছেন সবসময়, তাদের ই চলে যেতে হচ্ছে !! এ বড় বেদনাদায়ক।
লেখার কোথায় শেষ, কোথায় শুরু , জানি না। কারণ জীবনের শুরু টা হয়ত জানা আছে, শেষ টা জানা নেই। শেষের আশা টাও এরকম আশা নয়। অঞ্জন দাদা আর নেই। আর সেই বিশ্লেষণ ও থাকবে না। আর সেই পূর্বাভাস ও থাকবে না। কিন্তু মানুষের মনে বেঁচে থাকবে আজীবন। জীবনের শেষ পর্যায়ে শেষ কথাটুকু বলতে না পারলেই সমাজের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য বলতেই হবে ” আমরা করব জয়, আমরা করব জয় “। কারন সাংবাদিকরা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ।
হয়ত অঞ্জন দাদার বিষয়ে লেখাটাই ঔদ্ধত্য এর বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এটাই বাস্তব। হতে পারে যখন তখন। তবু সাবধান। নিয়ম মানুন। কারন আমাদের লড়তে হবে আমাদের জন্য নয়, সমাজের স্বার্থে, আম জনতার স্বার্থে।

