TSNM News : 2020 – হবে না তিমিরের চিকিৎসা , খুলবে না বিবেকের দোকান, দেখা হবে না দেবারতি আর সৌমিজিতের। সবাই তো সুখী হতে চায় , তবু কেউ সুখী হয় , কেউ। খবর এলো করোনা এসেছে। মারা যাচ্ছে প্রচুর লোক । জ্বর হচ্ছে। শরীর খারাপ লাগছে। অল্প সময়ে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল কত লেখা। কত ঘটনা। কত পুরোনো স্মৃতি। 100 বছর আগে কি হয়েছিল। 100 , একশ বছর বছর আগে কি হয়েছিল। দুর্ধর্ষ সব লেখনী আর ছবি ভিডিও তে প্রকাশ পেয়েছিল কত প্রতিভা। কত দুঃখ কষ্ট প্রকাশ্যে এসেছিল।
চোখের সামনে দেখা গিয়েছিল না দেখা ছবি। রাস্তা শুনশান, সব বন্ধ, মৃত্যু মিছিল আরো কত কি। শুরু হল পুজোপাঠ। করোনা দূরীকরণের চেষ্টা। লক ডাউন। নিয়ম মানতে পুলিশের লাঠি। মাস্ক পরে স্যানিটাইজার এর ব্যবহার সব সময়ে। 2 সপ্তাহ লক ডাউন, 4 সপ্তাহ লক ডাউন, এক মাস লক ডাউন করে পার হয়ে গেল একটা বছর। আটকে পড়ল বিয়েবাড়ি, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, সহ নানান অনুষ্ঠান। এমন কি বন্ধ হয়ে গেল শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান।
দ্বিতীয় টিকা নেয় নি 1 লক্ষ 12 হাজার
ভাবা যায়– পিতা মাতা কে মুখাগ্নি করতে পারে না সন্তান ? ভাবতে পারেন – স্বামী মারা গেলে তার মুখ দেখতে পায় না স্ত্রী ? ভাবা যায় – বাবার চোখের সামনে করোনার গ্রাসে মৃত্যু হয় ছেলের ? এ কেমন প্রলয় ? এ কেমন বিধাতা ?
যে বাবার রোজগারের দিকে তাকিয়ে থাকে ছেলে ,মেয়ে ,বউ, সেই বাবাকে ঘরে বসে থাকতে দেখে বাড়ির লোকেরা ? কোথায় গেল শঙ্খ ধ্বনি, কোথায় গেল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কোথায় গেল গোল দাগ ? আজ আর কিছু নেই। আবার ও করোনা।
করোনা, দেখা হবে না ওদের, করোনা দূরীকরণের চেষ্টা
আবার ও লক ডাউন। আবার হয়ত বিবেক বলবে — কি করে চলবে সংসার ? আবার তিমিরের চোখ দিয়ে জল গড়াবে–চিকিৎসা হবে না তার। আয় নেই। ওষুধ কিনবে কোথা থেকে ? শ্রেয়শ্রীর প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ হল। আর্থিক অনটনে থাকা শ্যাম এর দোকান বন্ধ। স্কুল কলেজ বন্ধ। পরীক্ষা বাতিল। সুমিতের আর চাকরি করা হল না। দেবারতির হয়ত সৌমিজিতের সঙ্গে আর দেখা হল না। কবে দূর হবে এই মারন রোগ। হেন রে বিধাতা পাষান কেন ? কবে ভাঙবে এই লক ডাউন নামক শিকল ? অপেক্ষায় সবাই। তবু মানতে হবে সরকারি নিয়ম। লড়তে হবে। করতে হবে জয়। বাঁচতে হবে। আশা কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তবে ই হবে সপ্ন পূরণ।

