Russia ukraine war কবে ফিরবে আসানসোলের সালহীন!শুধু 6 সেকেন্ডের ভিডিও
ইউক্রেনের আকাশে শুধু ই বারুদের গন্ধ। বোম গুলির শব্দ । শুনশান এলাকা। মুহূর্মুল গোলাবর্ষণ।
ভিডিও দেখুন👇
যুদ্ধ বিমান। ট্যাংকার। অনেক দূর ইউক্রেন। আসানসোলের ওকে রোড এর বাসিন্দা সাজিদের চোখ যেন টিভি আর মোবাইল এর দিকে। কথা হয়েছে সালহীন এর সঙ্গে কাল। আজ সকালে নেটওয়ার্কের কারণে হয়ত কথা হচ্ছে না।
মেয়ে জানিয়েছে..দিনের বেলা ফ্ল্যাটে থাকলেও রাতের আশ্রয় বাঙ্কার। মেট্রো তে। গাদাগাদি করে অনেকেই। প্রাণভয়ে।
পড়ুন…দিনে ফ্ল্যাটে রাত্রে বাংকারে
উচ্চ শিক্ষিত করতে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছেন একমাত্র কন্যা কে। মেডিকেলে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সে। ভালোই কাটছিল দিনগুলো। হটাৎ যুদ্ধ। এমন তো ছিল না ইউক্রেন। সে কারণেই মেয়েকে পড়তে পাঠিয়েছিলেন। এখন শুধু ই চিন্তা। কখন ফিরবে মেয়ে। শান্ত হোক । বন্ধ হোক যুদ্ধ। সরকার ব্যবস্থা নিক। অনেক দিন হয়ে গেল।
চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ সালহীন এর মায়ের ও। সময় যত এগোচ্ছে চিন্তার রেখা তত ই স্পষ্ট হচ্ছে। বহু ছাত্র ছাত্রী ফিরছে। কবে ফিরবে সালহীন?
পড়ুন…কিসের অপেক্ষা সাজিদের
উত্তর আসানসোলের ও কে রোড এলাকায় বাসিন্দা সাজিদ আক্তারের একমাত্র মেয়ে সালহীন সাজিদ এখন যুদ্ধ বিধস্ত ইউক্রেনের খারকিভে। সকালে ফ্ল্যাটে তো রাত্রে বাংকারে বা মেট্রো স্টেশনে..মাটির নিচে। পাঠাতে পেরেছে মাত্র 6 সেকেন্ডের ভিডিও। সকাল থেকেই যোগাযোগ হচ্ছে না ফোনে বা ওয়াটস আপে। চিন্তিত বাবা সাজিদ আক্তার। সকাল থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন যোগাযোগের।
সাজিদের মেয়ে ইউক্রেনে মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। যুদ্ধের খবর পেয়ে বিগত 27 তারিখে নিজেই প্লেনের টিকিট করেছিলেন । কিন্তু আনা যায় নি। আবার ও মার্চ মাসের টিকিট করিয়েছেন। প্রসাশনের পক্ষ থেকেও সে রকম কোনো রেসপন্স পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। আসানসোলের জেলাশাসকের অফিস থেকে শুরু করে নবান্ন পর্যন্ত যোগাযোগ করেছেন তিনি। আবার তার মেয়েও ইউক্রেনে ভারতীয় এমবাসী এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাও এখনো ফেরানো যায়নি।
আতঙ্কে দিন কাটছে সাজিদের পরিবারের। মেয়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন..মুহুর্মুহু বোমাবাজি হচ্ছে। খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। দিন যত এগোচ্ছে নিরাপত্তা কমে আসছে। দিনটা কোনোমতে পার হলেও রাত টা কাটাতে হচ্ছে বাংকারে।
সাজিদ বলেন..ইউক্রেন শান্তিপূর্ণ বলেই সেখানে পাঠিয়েছিলেন মেয়েকে।বক্তা মাত্র মেয়ে। পরিবারের অবস্থা সঙ্গীন হয়ে পড়েছে। সালহীন এর মায়ের অবস্থায় খারাপ হচ্ছে দিনের পর দিন। প্রশাসনের কাছে সরকারের কাছে একটাই আবেদন ..ফিরিয়ে আনা হোক সালহীন কে।
সাজিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার কংগ্রেস কাউন্সিলর এস এম মুস্তাফা। তিনি বলেন..উচ্চ শিক্ষিত পরিবার। তাই মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করতেই পাঠিয়েছিলেন। এখন একটাই চাওয়া। ফিরে আসুক সালহীন।
সাজিদের পরিবার শুধু এখন আল্লার ভরসায়, ঈশ্বর এর দিকে তাকিয়ে।

