Rail has no option.. আদৌ পুনর্বাসন পাবেন এনারা ?
দীর্ঘ আট দিন ধর্ণা চলার পর বুধবার সকালে হটাৎ ই উত্তেজনা ছড়াল উত্তর আসানসোলের ডিপো পাড়া এলাকায়। ডিপো পাড়ার প্রবেশ মুখে বড়ুয়া ব্যারাকের দোকান উচ্ছেদের ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল প্রায় 150 দোকানদার। বহু প্রাচীন এই দোকানিদের পরিবার গুলি দোকানের ওপর নির্ভরশীল বলেই জানা গেছে। কিন্তু ভারতীয় রেলের ফ্রেট করিডোর তৈরি হবার কারণে উক্ত এলাকা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। সে খবর আগেই চাউর হয়েছিল। রেল সূত্রের খবর ..উক্ত জায়গার মালিকদের বেশিরভাগ টাকাই দিয়ে দেওয়া হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে। তারপরেই বুধবার সকালে উক্ত এলাকায় আসে রেলের বুলডোজার। সেই দেখেই আন্দোলন তীব্রতর হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসানসোল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অমর নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান…জোর করে কিছু হবে না। রেলের কথা বলা উচিত। যে সমস্ত মানুষ এই দোকানগুলোর ওপর ভরসা করে আছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে আগে। তা নাহলে কোনোমতেই এলাকা ভাঙতে দেওয়া যাবে না।
পড়ুন…কি বলছে রাজনৈতিক মহলে
তৃণমূল নেতা উৎপল সিনহা জানান…এ এক বুলডোজার সরকার চলছে। দুঃখ জনক সিদ্ধান্ত। কোথায় যাবে এত মানুষ। কি হবে তাদের রুটি রুজির ? যোগ্য পুনর্বাসন না পেলে আন্দোলন চলবে এবং আরো বৃহৎ হবে।
অপর দিকে আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারী সম্পুর্ন দোষ চাপিয়েছেন তৃণমূল নেতাদের ওপরেই। তিনি জানান..রেল কে জমি অধিগ্রহণ করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আসানসোলের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে মিটিং এর পরেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ডি এম অফিস এর মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছিল অধিগ্রহনের পরিবর্তে। যেহেতু রাজ্য সরকারের দপ্তরের মাধ্যমে কাজ হয়েছে তার অর্থ শাসকেরা সব ই জানেন। সাধারণ মানুষের কথা তখন ভাবে নি কেন ?
যদিও এলাকার ব্যবসায়ী দের দাবি..দীর্ঘ বহু বছর ধরে তারা এই এলাকায় ব্যবসা করছেন। যার মাধ্যমে সংসার চলছে। এ হেন সিদ্ধান্তে বিশাল বিপদে পড়তে হবে তাদের। কোনোমতেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না তারা। পুনর্বাসন না দিলে চলবে আন্দোলন। প্রয়োজনে বুলডোজার এর নিচে চাপা পড়তে বা জীবন দিতে রাজি তারা।
দেখুন…রেল সূত্রের খবর কি ?
যদিও রেল সূত্রের খবর…বিষয়টি সরা সরি রেল বোর্ডের হাতে রয়েছে। রেলের নিয়ম অনুযায়ী অধিগ্রহনের যোগ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তা এখানেও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রেলের কাছে আর কোনো অপশন নেই।
তবে উক্ত এলাকার নেতা তথা আসানসোলের চেয়ারম্যান অমর চ্যাটার্জির মতে..রেল কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সাথে আলোচনায় বসে, এলাকার লোকেরা যদি যোগ্য পুনর্বাসন পায় তাহলে সমস্যা মিটে যেতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে..দিল্লী কানপুর হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ফ্রেট করিডোর। আইন সকলের জন্য ই সমান। সে ক্ষেত্রে কি হতে পারে ভবিষ্যৎ ? সেটাই এখন দেখার।

