রেনু যার ডান হাতের কব্জি কেটে নেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা জনক অবস্থায় বেশ কিছুদিন দুর্গাপুরে চিকিৎসাধীন। পেলেন অনেক কিছু। কি কি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? স্বামীর নৃশংসতার বলি কেতুগ্রামের রেনু। সরকারি চাকরি পেয়েছে নার্সিং এর। কিন্তু কোথায় যেতে হবে কাজে। শুরু হয় সন্দেহ। স্বামীর অকাল ভালোবাসা র অবদান পেল সে। ডান হাতের কব্জি কেটে নেবার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। তারপর বাঁচার লড়াই। সেখানেও জয় রেনুর। আপাতত স্থিতিশীল সে। লিখতে শুরু করেছেন বাম হাতে।খবর ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ জুড়ে। খবর পৌঁছেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। কি কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
Her struggle for existence, রেনুর লড়াই, কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী
1. সরকারি কাজ তো হবেই। হাতের কাজ না পারলে মুখের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
2. যে হাতের কব্জি কেটে নেওয়া হয়েছে সেই হাতের বিকল্প কব্জি লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
3. তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্যসাথী পাওয়া যায় নি। এখনো পর্যন্ত খরচ হয়েছে 57000 টাকা। সেটাও দেখা হচ্ছে।
খবর শুনে কৃতজ্ঞ রেনু। জানালেন…কৃতজ্ঞতা জানানোর ও ভাষা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মায়ের মত। মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কৃতজ্ঞতা জানানোর কোনো ভাষা নেই।
পড়ুন ….কারা এসেছিলেন দেখা করতে
স্বামীর নৃশংসতার শিকার হওয়া কেতুগ্রামের নার্সিং স্টাফের সাথে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে দেখা করলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং চার জনের প্রতিনিধিদল। ওই নার্সিং স্টাফ যাতে সরকারি চাকরি পায় সে দিকেও তৎপর রাজ্য প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হবে বলে জানালেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। শনিবার স্বামী শের মহম্মদের নিসংসতায় নার্সিং স্টাফ স্ত্রী রেনু খাতুনের কাটা গেছে ডান হাতের কব্জি। দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ইচ্ছে সে সরকারি নার্সিংয়ের চাকরি করবেই।জীবন যুদ্ধে হার না মানা নার্সিং স্টাফ রেনুর শুরু হল ঘুরে দাড়ানোর লড়াই। স্বামীর নিসংসতায় শনিবার কাটা গেছে ডান হাতের কব্জি। তাতে কি মঙ্গলবার থেকে বাঁ হাত দিয়েই শুরু হল দুর্গাপুরের হাসপাতাল থেকে লেখা।
মঙ্গলবার বিকালে রেনুর সাথে ওই বেসরকারি হাসপাতালে দেখা করেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন লিনা গঙ্গোপাধ্যায় সহ ৪জনের প্রতিনিধি দল। তিনি বলেন সমস্ত রকম ভাবে তৎপর রাজ্য সরকার এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যেই ওই নার্সিং স্টাফের সাথে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যাবস্থা নেবে প্রশাসন। এই ধরণের ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। ওই নার্সিং স্টাফ যাতে সরকারি চাকরি পায় তার বিষয়ে সমস্ত রকম ভাবে তৎপর রাজ্য প্রশাসন। তিনি ওই নার্সিং স্টাফের সাথে কথা বলেন এবং এই রিপোর্ট সমাজকল্যাণ দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। অভিযুক্তরা যাতে দ্রুত গ্রেফতার হয় সেইজন্যও ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Who is the girl কে সেই মেয়ে, কি হচ্ছে মেয়েদের স্কুলে, লটারিতে জিততে না পেরেও আসানসোলের গর্ব
পড়ুন …ঠিক কি হয়েছিল
স্ত্রী নার্সিংয়ের সরকারি চাকরি পেয়ে ছেড়ে চলে যাবে এই আতঙ্কে স্ত্রীর হাত থেতলে টিন কাটার কাঁচি করে হাতের কব্জি বন্ধুদের নিয়ে কেটে বাদ দেওয়ার অভিযোগ গুনধর স্বামীর বিরুদ্ধে। দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি।সোমবার দুর্গাপুরের শোভা পুরের কাছে বেসরকারি হাসপাতাল থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করে বাবার বাড়ির লোকজন। অভিযুক্ত স্বামী এবং বন্ধুরা পলাতক। ২০১৭ সালে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের কোজলসা গ্রামে শের মহাম্মদের সাথে প্রেম করে কেতুগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের চিনিসপুরের রেনু খাতুনের বিয়ে হয়।
২০২০তে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পায় রেনু। স্ত্রী চাকরি করায় আপত্তি ছিল স্বামীর। সম্প্রীতি সরকারি নার্সিংয়ের চাকরি পায়। সরকারি চাকরি পেলে স্ত্রী ছেড়ে চলে যাবে সন্দেহ ছিল গুনধর স্বামীর। তারপর বেশ কয়েকজন বন্ধু স্ত্রীর হাত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। শনিবার রাত্রিতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভেতর রেনুর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হাতুড়ি দিয়ে হাত থেঁতলে টিন কাটার কাঁচি করে ডান হাতের কব্জি কাটা হয় বলে অভিযোগ। রেনুর বাবার বাড়ির লোককে ফোন করে কাটা হাত নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় শশুর।
বাবার বাড়ির লোকজন রেনুর শশুরবাড়িতে যতক্ষণে যায় ততক্ষনে রেণুকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে পালায় অভিযুক্ত স্বামী শের মহম্মদ ও বন্ধুরা। তারপর বাবার বাড়ির লোকজন কাটা হাত নিয়ে কাটোয়া হাসপাতাল থেকে বর্ধমান এবং পরে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করছে বাবারবাড়ির লোকজন। যাতে করে তাদের মেয়ে সরকারি চাকরি পাই সেই দাবিও রেখেছেন।

এখনো পর্যন্ত যে খবর তাতে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা ও নেওয়া হয়েছে।

