পুজোয় বাজবে না মাইক , জ্বলবে না লাইট, এমন পুজো কখনো হয়েছে। আচ্ছা এমন যদি কোনো পুজো প্যান্ডেল হয় যেখানে বাজবে না মাইক, যেখানে থাকবে না আলোর ছটা, তাহলে ঠিক কেমন হবে ? পুজোর প্যান্ডেল এ যদি শোনা না যায় “জাগো তুমি জাগো” অথবা ” রূপং দেহি জয়ঙ দেহি ” তাহলে কেমন হবে ? অথবা অন্ধকার প্যান্ডেল এ বাল্ব জেলে পুজো , ঠিক কি রকম ছবি তুলে ধরবে ? হ্যাঁ, এমনি হতে যাচ্ছে আসানসোল তথা পশ্চিম বর্ধমানের সব পুজো প্যান্ডেল এ। তবে এ কোন সরকারি নির্দেশ নয়। করোনা আবহে এমনটাই বক্তব্য লাইট মাইক এসোসিয়েশনের।
সম্পুর্ন ভিডিও দেখতে ইউ টিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন tsnm news
তাদের দাবি – উক্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের ভ্যাকসিন না দেওয়া হলে তারা কাজ করতে পারবে না। শুধু পুজো ই নয়..15 আগস্ট থেকেই এই কাজ না করার কর্মসূচি নেবে তারা। শুধু তাই নয়..করোনা আবহে 2 বছর ধরে কাজ না থাকায় আর্থিক সমস্য তে জর্জরিত তারা। সরকার থেকে ব্যবসা চালানোর জন্য ঋণ ও দিতে হবে। বার বার গিয়েও মিলছে না ভ্যাকসিন। যদিও অস্সাস দিচ্ছেন আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রশাসক অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় অথবা বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। তবু ও মিলছে না ভ্যাকসিন। যে শ্রমিকরা কাজ করবেন তারা করোনা আক্রান্ত হতে পারেন এবং তা বহন করে এনে নিজের পরিবারের ছড়াতে পারেন। তাই তারা কাজ করতে চাইছেন না। সংগঠনের কোষাগার শূন্য। ব্যবসা বন্ধ। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আর্জি দেখা হোক তাদের দিকেও।
পুজোতে বাজবে না মাইক জ্বলবে না আলো
তবে দাবি না মিটলে কাজ বন্ধ রাখার কথাই বলছেন এসোসিয়েশনের পাদাধিকারী সঞ্জয় রায়। পরিষ্কার বলছেন – বাজবে না মাইক। জ্বলবে না আলো। কিন্তু কিছু করার নেই। 15 আগস্ট এর আগে ভ্যাকসিন না পেলে 15 আগস্ট থেকেই কাজ বন্ধের আবেদন। আর আর্থিক অনুদান না পেলে পুজোতে তো মাইক বাজানো বা গান শোনানো সম্ভব ই নয়।
প্রসঙ্গত – বিগত দু বছরে করোনা কালে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। ইলেকট্রিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা কেউ সবজি বিক্রি করছেন। কেউ বা অন্য কিছু। যেখানে সরকারি নির্দেশ যে পুজো কমিটির সকল সদস্য কে ভ্যাক্সিনেটেড হতে হবে সেখানে বিনা ভ্যাকসিন কি ভাবে লাইট মাইকের কাজ করবে তারা। আর আর্থিক সাহায্য না পেলে পুজোর কাজ করা তো অসম্ভব। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর অনুরোধ- রূপশ্রী, কন্যাশ্রী বা আরো প্রকল্পের মত এদের ও কিছু ব্যবস্থা করা হোক। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ ও তাদের পরিবার । আর্থিক দুরবস্থা তো আছেই। তবু লড়াই চলছে। সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন সরকারের কাছে।

