Friday, April 24, 2026

এ কি করলেন প্রধান

যে স্বার্থ ত্যাগের শুরুটা ক্ষমতার অলিন্দে থেকে শুরু করেছিলেন দুর্গাপুরের অন্ডালের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লক্ষী টুডু, সেই ধারাবাহিকতার ব্যাটন টা এবার হাতে নিল দুর্গাপুরের লাউদোহার প্রতাপ পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেন কিস্কু ও দুর্গাপুর ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি হেমব্রম। রাজেন কিস্কু আর শ্রীমতি হেমব্রম এরা দুইজন সম্পর্কে আবার ভাই বোন। লক্ষী টুডু অন্ডাল পঞ্চায়েত সমিতির এই সভাপতি রাজ্যের শাসক দলের টিকিটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও কেন্দ্র কিংবা বাংলা আবাস যোজনায় কোনো ঘর পাননি।

সম্পুর্ন ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন ইউটিউব এ tsnm news

গত নিম্নচাপে বৃষ্টির জলে যখন এক চিলতে মাটির ঘরে জল ঢুকে গিয়ে সবকিছু তছনচ করে দিল, তখন তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত এই জন্প্রতিনিধি নিঃশব্দে আত্মীয়ের বাড়ীতে গিয়ে উঠেছিলেন।ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি, তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও ঘর পাননি সরকারী প্রকল্পে।

কেন্দ্র ও বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের অনেক ঘর লাউদোহার প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেন কিস্কু ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি হেমব্রমের হাত ধরে বেরিয়েছে। অথচ সম্পর্কে ভাইবোন এই দুই পঞ্চায়েত প্রতিনিধির কপালেই জোটেনি মাথা গোঁজার পাকাপাকি জায়গা, নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে মাটির ঘরে ঢুকে পড়েছে জল, এক হাঁটু জল জমেছে ঘরে, ফাটলও দেখা দিয়েছে ঘরের মাটির দেওয়ালে, যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বাড়ী, হারাতে হতে পারে মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু তাতেও কোনো আফসোস বা হা হুতাশ নেই শ্রীমতি হেমব্রম ও রাজেন কিস্কুর। আর পাঁচজনের মতো সরকারী নিয়ম মেনেই তারা ঘর পাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান,নিয়মের বাইরে গিয়ে তারা কিছু করতে চান না বলে।

এ কি করলেন প্রধান

জানিয়েছেন, দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি হেমব্রম ও প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেন কিস্কু। যে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের এক কলমের খোঁচায় একটার পর একটা সরকারী প্রকল্পের ঘর পেয়েছে এলাকার মানুষজন, আজ প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন লবনা পাড়া গ্রামে শ্রীমতি হেমব্রম ও রাজেন কিস্কুর মাটির ঘর টানা বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়েছে। মান,অভিমান ক্ষোভ, বিক্ষোভ নয় আর পাঁচ জনের মতো যবে তালিকায় তাদের নাম আসবে তবেই তারা সেই সরকারী নিয়ম মেনেই ঘর নেবেন। জানিয়ে দিলেন দুর্গাপুর ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি হেমব্রম ও লাউদোহার প্রতাপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেন কিস্কু। প্রয়োজনে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে গিয়ে উঠবেন, কিন্তু নিয়মের বেড়াজাল টপকে সরকারী প্রকল্পের ঘর পেতে ইচ্ছুক নয় এই ভাই বোন।

দলেরই দুই কর্মীর স্বার্থত্যাগ দেখে গর্বিত পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য সুজিত মুখার্জী,তিনি জানালেন, এর চেয়ে বড় কথা আর কি হতে পারে। যখন কাটমানি আর হাজারো দুর্নীতির বেড়াজালে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক শ্রেণীর কর্মী নেতাদের বিরুদ্ধে ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ উঠেছে। জেরবার বিড়ম্বনার মাঝে পড়তে হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বকে ঠিক সেখানে লক্ষী টুডু শ্রীমতি হেমব্রম আর রাজেন কিস্কুর মতো মানুষজন যারা সরকারী পদে থেকেও নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে না বেড়িয়ে খোলা বাতাসে যেন অনেকটা স্বস্তির বাতাবরণ তৈরী করে দৃষ্টান্ত তৈরী করলেন। আর তাই লক্ষী শ্রীমতি আর রাজেন যেন মুক্ত আকাশে যেন বেঁচে থাকার অক্সিজেনের অনেকটা রসদ জোগালো।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles