তৃনাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় / আসানসোল – মঞ্চে চাপতে দেওয়া হয় না, অন্ধ বাপিকে। যদি বলে ফেলে না পাওয়ার কথা, রাজনৈতিক নেতা শুধু লক ডাউনের বাহানা দেয়। ঘর ভেঙেছে অন্ধ বাপির। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদ ও। তাও হয়ত বুঝতে পারবে না বাপি মন্ডল। ঘরের এ পাস ও পাস, ছাদের টালি একটু একটু করে ভাঙছে। কিন্তু প্রতিবেশীরা না বললে বোঝার উপায় নেই। কারণ 30 বছরের বাপির দুটি চোখ ই অকেজো। তবু ও কিছুই জোটেনি বাপির কপালে। বাড়ির ছাদের কোন কোন দিয়ে যেমন সূর্যের রশ্মি ঢোকে সে রকম জল ও পরে। আর জল পড়লে বাপি হয়ত বোঝে ছাদ ভাঙছে। তবু ও না পাওয়ার বেদনা বাপির চোখে মুখে। স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রতি গুরুতর অভিযোগ। কাউন্সিলর নাকি কোনো মিটিং এই তাকে মঞ্চে উঠতে দেয় না।
পাছে সে না পাওয়ার কথা বলে ফেলে। রেশন কার্ড ও আছে। কিন্তু তাকে বড় রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে শুধু 2 কিলো চাল পাওয়া যায়। আর কিছুই নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে বাড়ির কাজ আটকে আছে। কারোর কোনো হেলদোল নেই। আয় মাত্র পেনসানের হাজার টাকা। তার ও আবার অনেকটাই বিদ্যুৎ বিলে চলে যায়। চোখ অকেজো। তাই কাজ করতে পারে না। নাহলে কাউন্সিলরের কাছে ভিক্ষা চাইবার দরকার পড়ত না। ক্ষোভে দুঃখে এমনটাই বলল অন্ধ বাপি।
অন্ধ বাপি পায় নি কিছু ই রাজনৈতিক নেতা শুধু লকডাউনের বাহানা দেয়
Read More –এ কি করলেন প্রধান
শুধু বাপি ই নয়। অভিযোগ করতে ছাড়লেন না বাপির বোন রুপা। সরাসরি বললেন আট বছর ধরে উত্তর আসানসোলের ব্লু ফ্যাক্টরি এলাকায় থেকে সরকারি ঘর পেল না তার ভাই। সাড়ে 3 বছর ধরে আটকে রয়েছে কাজ। লক ডাউন এর বাহানা দিচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তিনি আরো অভিযোগ করেন- তাদের পরে আসা পয়সাওয়ালা লোকেদের সরকারি ঘর হয়ে যাচ্ছে। আর তাদের মিটিং এই শুধু নিয়ে যায়। মঞ্চে চাপতে দেওয়া হয় না। পাছে না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পায়। অন্ধ বাপি দেওয়াল ধরে ধরে নিজের ঘরে ঢোকে। কোনোমতে খাবারের যোগান হয়। সরকারি হাজার টাকার পেনসনে দিন গুজরান করে আর রেশন কার্ড আর আধার কার্ড কে সঙ্গী করে আফসোস করে চোখ ঠিক থাকলে কাজ করতাম, কাউন্সিলরের কাছে ভিক্ষা চাইতে হত না।
ভিডিও দেখতে সার্চ করুন– youtube-tsnm news
Next News – দিন পাহারায় আদিবাসী মেয়ে, মহিলারা। বাঁচাতে হবে পরিবেশ, বাঁচাতে হবে শৌচ কর্ম, স্নান বা দাহ সংস্কারের জায়গা, তাড়াতে হবে জমি মাফিয়াদের
এবার জমি মাফিয়াদের তাড়াতে , গাছ কেটে নেওয়া কে রুখতে, নিজেদের শৌচ কর্ম, স্নান, দাহ সংস্কার এবং পরিবেশ বাঁচাতে দিন পাহারায় নেমে পড়ল আদিবাসী মেয়ে ও মহিলারা। কেউ নদীর পাড়ে বাসন মাজার অছিলায়, কেউ বা গাছের নিচে আবার কেউ জঙ্গলের মাঝে বসে পাহারা দিতে শুরু করল। তাড়িয়ে ও দিল অবৈধ ভাবে গাছ কাটা বা নদীর জমি দখল করা জমি মাফিয়াদের। বন্ধ করে দেওয়া হল গাছ কাটাও। অভিযোগ- রাজনৈতিক নেতা নেত্রী দের বলেও কিছু হয় না। তাই তারাই ঠিক করেছে উত্তর আসানসোলের হুচুক পাড়ায় এ সব কাজ করতে দেওয়া হবে না। নিজেরাই প্রতিবাদ করবে।
এই অশিক্ষিত গরিব আদিবাসীদের কাছে জমি কেনার টাকা নেই। বাড়ি করার ক্ষমতাও নেই। স্বার্থ ও কিছু নেই। কিন্তু এই আদিবাসী পরিবার গুলোর শৌচালয় নেই। যদি বা এক দুটো আছে তার আবার নিকাশি ব্যবস্থা নেই। ফলে নোংরা জল জমে থাকার কারণে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে মাত্র কয়েকটি শৌচালয়। যে কারণে নদীর পাড় বা জঙ্গল ই হুচুক পাড়ার আদিবাসী মানুষ গুলোর একমাত্র ভরসা। স্থানীয় কাউন্সিলর কে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
রনিজেদের বাড়ির মেয়েদের সম্মান, পরিবেশ রক্ষা, এবং শৌচ কর্ম, স্নান, ও নদীর ধারে অবৈধ কাজে লিপ্ত মাফিয়াদের তাণ্ডব এর প্রতিবাদ করতে নিজেরাই দল তৈরি করে ফেলেছে এই গরীব মানুষগুলো। দৃপ্ত কণ্ঠে জানাচ্ছে -তারাই রক্ষা করবে পরিবেশ। কোনোমতেই অবৈধ জমিদখল, গাছ কাটা, জঙ্গল কেটে ফেলতে দেবেন না তারা।

