Sunday, April 26, 2026

একটা রাস্তা যখন অনেক কথা বলে, একটা ছবি যখন

একটা রাস্তা যখন অনেক কথা বলে। একটা ছবি যখন পুরোনো কথা মনে পড়িয়ে দেয়। একটা লেখা যখন কিছু খুঁজে পাবার চেষ্টা করে। একটা আলো যখন অন্ধকার কে মনে পড়িয়ে দেয়। একটা বৃষ্টি যখন রৌদ্রাজ্জ্বল দিনগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তখন ই কেউ বলে ” স্মৃতিগুলো কিছুতেই পিছু ছাড়ে না”। একলা বসে কেউ বা গুন গুন করে গায় “মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে ” । কেউ আবার রাতের আলো আঁধারীতে ছুটে চলে ” আমার স্বপ্ন তুমি ওগো চিরদিনের সাথী ” । আর স্মৃতিচারণে যেন উঠে আসে সেই লাইন ” এই পথ যদি না শেষ হয় ” ।

স্টোরি পড়ে মনে হবে এই খবরের গুরুত্ব কি ? কেন ই বা এই খবর ? এটা কি খবর ? একটু পিছনের দিকে তাকালেই মনে পড়ে যাবে ” প্রত্যেকের স্কুল জীবনেই ছিল এই রকম একটা পথ। যা এখনো আকর্ষণ করে তাদের। এ খবর বহু মানুষের দাবি, আবদার, অনুরোধ। জীবনের একটা সময়ে এসে সবার ই মনে হয় এই রকম একটা কিছু। কোথাও প্রকাশিত হয়। কোথাও অপ্রকাশিত থাকে। আসলে আমরা ” এক পৃথিবী লিখবো বলে একটা পাতাও শেষ করিনি ” ।

আসা যাক আসল জায়গায়, এই শোন এখন আমি মসৃন। আলো ঝলমল। বৃষ্টি পড়লে জল গড়িয়ে যায়। আর পাশের বন্ধু ? সেও আলোকিত। তবে ঘেরার মাঝে। কিন্তু আমি ভালো নেই। আমার বুকের উপর দিয়ে যায় না একগুচ্ছ লাল পাড় সাদা শাড়ি। যায় না স্লেট রঙের প্যান্ট পরে চালকের সাইকেলের চাকা। নেই কোলাহল। নেই চঞ্চলতা। তাই আমার টেকনিকাল এর মাঠ, টেকনিকাল এর রাস্তা নামটা শুনতেই ভালো লাগে। আমার নাম কিন্তু টেকনিকাল এর রাস্তা। এখন আমরা বলছি পলিটেকনিক এর মাঠ। পলিটেকনিক এর রাস্তা। আসলে আমরা পড়াশুনা শিখে গেছি। কিন্তু একটা সময় ছিল এই মাঠ এই রাস্তা টেকনিক্যাল নয় টেকনিকাল বলে পরিচিত ছিল। আরো বিশেষত্ব – আমাদের স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী ই এই রাস্তা ব্যবহার করত। খুব যদি ভুল না করি, তাহলে গোপালনগর, ডিপোপাড়া, বেলডাঙ্গা, প্রেমনগর, কাল্লা, দোমহানি, পরিরা, মাজিয়ারা থেকে আসা ছাত্র ছাত্রী রা এই রাস্তাই ব্যবহার করত।

একটা রাস্তা যখন অনেক কথা বলে, একটা ছবি যখন

একটা সময় তো মহি শিলা ধাদকা বা বুলু ফ্যাক্টরি রুটের বাস ও চলত। তাতেও সব স্কুলের ছাত্র ছাত্রী রা যাতায়াত করত। আর বেশির ভাগ ছাত্র ছাত্রী রা স্কুলের ছোট গেট ব্যবহার করত। মাস্টার পাড়া হয়ে।
শুধু তাই নয়, মাস্টার পাড়ায় ছিল আমাদের শিক্ষক দের বাস। প্রাইভেট টিউশন পড়তে আসা যাবার রাস্তাও ছিল এটা। তবে সে রাস্তা এত মসৃন ছিল না। হাঁটলে পায়ে লাগত। এত আলো ঝলমলে ছিল না। তবু লোকে লোকারণ্য থাকত। স্কুল মোড়ে কুয়ো পারে পটাই এর চপ দোকানে চপ নিয়ে বাম দিকে লালজির দোকান পার করে টেকনিকাল এর ভগ্নপ্রায় গেট দিয়ে ঢুকে লাল শেড পার করা। সেই লাল শেডের অনেকটাই এখন নীল সাদা হয়ে গেছে।

Read More – কি চেয়েছি আর কি যে পেলাম

সকাল 10 টা থেকেই একগুচ্ছ লাল পাড় সাদা শাড়ির যাতায়াত আর আসে পাশে পিছনে স্লেট রঙের প্যান্ট আর সাদা জামা পরা সাইকেলের কিছু চাকা, যেন থামতেই চাইত না। যত গাম্ভীর্য বা দূরত্ব ভঙ্গ হত এই রাস্তাতেই। আবার শাড়ি জামার গোপন কথা বা দেওয়া নেওয়ার পর্ব টা সেরে ফেলা হত এই পথেই। না কোনো এক ব্যাচ এর ব্যাপার নয়। সব ব্যাচেই তাই। আর খেলার মাঠে তো মারামারি হত জায়গা পাওয়া নিয়ে। আজ আর নেই। আলো ঝলমলে রাস্তা, আলোকিত মাঠ। কিন্ত,

 

করোনার আবহে, পরিস্থিতির পরিবর্তনে, মোবাইলের জগতে এখন ধাদকা নারায়ণ চন্দ্র লাহিড়ী বিদ্যমন্দিরে আসার রাস্তা নির্জন। জনমানব শূন্য। যখন আলো ছিল না, মসৃন রাস্তা ছিল না তখন থাকত জনমানব পূর্ন। মাঠে থাকত কচি কাঁচা দের ভিড়। সময় ছিল না। ছিল না ইংরেজি ভাষার মর্নিং ওয়াক। মাঠ যেন সবসময়ের। রাস্তা যেন ব্যাস্ত। খেলা ধুলা থেকে পড়াশুনা। সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল মাঠ। খনি অঞ্চলের বহু প্রতিষ্ঠিত দের চলাচল ছিল এই পথে। লিখতে গিয়ে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন আমরা। কেউ বলছে এটা বাদ কেউ বলছে ভুতের ঘরের কথা। কেউ বলছে ওয়ার্কশপের বিষয়টা ? কেউ বলছে অনেক কথা বাকি,
আমরা বলছি ” আজ তবে এইটুকু থাক- বাকি কথা পরে হবে”

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles