Friday, April 24, 2026

এ যেন রূপকথার গল্প, অথবা পুস্পা দেবী মরিয়াও প্রমান করিল যে সে মরে নাই

মৃতা জীবন্ত হয়ে উঠল শ্মশানে, এ যেন রূপকথার গল্প । অথবা পুস্পা দেবী মরিয়াও প্রমান করিল যে সে মরে নাই। এমনটাই হল। যে বাস্তবের রূপ নিল। শুনলে বিস্বাস হবে না হয়ত। মাচা বাঁধা হল। সাদা কাপড় দেওয়া হল। পাড়ার ছেলে রা জুটল। পুস্পা দেবী কে মাচায় চাপানো হল। ফুল দেওয়া হল। দড়ি দিয়ে কষে বাঁধা হল। নিশ্চুপ পুস্পা দেবী। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল। চিৎকার চেঁচামেচি কান্নার শব্দ। তাও চুপ পুস্পা দেবী।
এরপর মাচায় করে নিয়ে যাওয়া হল শ্মশানে। কোনো আওয়াজ নেই পুস্পা দেবীর। সাজল চিতা এবার অন্তিম মুহূর্ত। নাটকীয় ঘটনার মত জেগে উঠলেন তিনি। পুস্পা দেবীর মুখ থেকে গোঙানির আওয়াজ। হতভম্ব সকলেই।

 

মৃত বলে বার্নিং হাটে নিয়ে আসা পুস্পা দেবী নিমেষে জ্যান্ত । না কোনো গল্পের শিরোনাম নয় এটি, বাস্তবের মাটিতে এই ঘটনা ঘটলো। আর যাকে ঘিরে ধুন্দুমার কান্ড ঘটলো পাণ্ডবেশ্বরের একটি শ্মশানে , তার নাম পুষ্পা আচার্য্য,বয়স ৭০, আর ধাম পাণ্ডবেশ্বরের নামো পাড়া। মাস আটেক আগে পুষ্পা দেবী পড়ে গিয়ে তার কোমর ভেঙে যায়। শয্যা শায়ী পুষ্পা দেবী এরপর থেকে আর সেই রকম কথাবার্তা বলতে পারতেন না, সেবা শ্রুশসার কোনো রকম ত্রুটি করেননি পরিবারের লোক। কিন্তু এত কিছুর পরও বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে হটাৎই শারীরিক অবস্হার অবনতি হতে থাকে পুষ্পা দেবীর। বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ বেশ কয়েক বার হেঁচকি ওঠার পর নিস্তেজ হয়ে পড়ে বছর সত্তরের পুষ্পা দেবীর গোটা শরীর।

এ যেন রূপকথার গল্প, অথবা পুস্পা দেবী মরিয়াও প্রমান করিল যে সে মরে নাই

Read More –পাস না ফেল শিক্ষক মহাশয় কিছু ই জানেন না

করোনা আবহে বেশ কয়েকজন ডাক্তারকে ডাকার পরও তারা না আসায়,পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি শুরু করে পুষ্পা দেবীকে, কিন্তু তখনও কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন ভেবে নেয় আর নেই পুষ্পা আচার্য্য। শুরু হয় কান্না কাটি, বাকি সদস্যদের ফোনা ফুনির পর্ব সেড়ে মৃতদেহ সৎকারের জোগাড় জানতি শুরু হয়, সাড়ে আটটা নাগাদ সনাতন রীতি নীতি মেনে এই পৌঢ়াকে নিয়ে যাওয়া হয় পাণ্ডবেশ্বররের একটি শ্মশানে। এরপরই শুরু হয় এই খবরের টার্নিং পয়েন্ট। পুষ্পা দেবীর দেহকে পারলোকিক ক্রিয়া কর্ম করে শুদ্ধ করে চিতায় চাপাতে গিয়ে বিপত্তি।

হটাৎ গোঙানির এক আওয়াজে হুঁশ ফেরে শ্মশান যাত্রীদের, আর পুষ্পা দেবীর কোমর ধরে চিতায় চাপাতে যাওয়ার সময় পাওয়া যাই এই গোঙানির আওয়াজ, প্রথমটা ভয়, পরে সাহস নিয়ে এই পৌঢ়াৰ দেহ ছুঁতেই মেলে প্রাণের সন্ধান। ততক্ষনে সবাই অবাক, ভাবছেন এ আবার হয় নাকি। সাথে সাথে চিতা থেকে নামিয়ে বছর সত্তরের এই বৃদ্ধাকে নিয়ে আসা হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে, ভর্তি করা হয় সেখানে। আর প্রবাদের সেই বাক্য যেন সত্যি হলো “রাখে হরি তো মারে কে “।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles