TSNM News – হটাৎ কি হল, যৌনপল্লী তে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ের পর মিষ্টি বিলি যৌন পল্লীতে রায় কে সাধুবাদ যৌন কর্মীদের। আর পুলিশ দেখে পালাতে হবে না। ঢুকে পড়তে হবে না ঘরে। গ্রাহক দের ও ভয় পেতে হবে না। পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যাবে না। মহামান্য আদালতের রায়ে খুশি যৌন কর্মীরা। তাই বৃহস্পিতিবার রাত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায় কে ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি বিলি করল যৌন কর্মীরা।
আর পুলিশ দেখে পালাতে হবে না
আসানসোলের সিতারামপুর, চবকা এলাকায় যৌনপল্লী তে মিষ্টি বিলি করল যৌনকর্মীরা। মিষ্টি দেওয়া হল গ্রাহক দের ও। ব্যবসায়ী রা জানান কোর্টের রায়ের পর কিছুটা নিস্তার পাওয়া গেল। গ্রাহক রা নিশ্চিন্তে আসতে পারবে। পুলিশ ব্যাস্ত করতে পারবে না। অত্যাচার করতে পারবে না। কারন এই এলাকায় পুলিশ খুব অত্যাচার করে। গ্রাহক রা চলে যায়। প্রসঙ্গত, উক্ত এলাকায় প্রায় হাজারের ও বেশি যৌনকর্মী ব্যবসা করে। মাঝে মধ্যেই পুলিশ এসে গ্রাহক দের বা মেয়েদের তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণে গ্রাহক রা আসতে চায় না বলে অভিযোগ।
করোনা লক ডাউনের সময়ে এমনি ব্যবসার অবস্থা খারাপ ছিল। তার পরেও পুলিশের অত্যাচারে খুব ই অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ। এখনো পুলিশি অত্যাচার চলছে বলে জানায় তারা। জড়িয়ে কোর্টের রায়ের পর দিন ফিরবে তাদের এমন ই আশা। আর সেই খুশি তেই মিষ্টি বিতরণ করে সাধুবাদ জানাল যৌনকর্মীরা। তাদের ব্যবসা কে অন্য ব্যবসার মত স্বীকৃতি দেওয়াতে খুশি তারা।
নির্দেশিকায় ঠিক কি বলা হয়েছে
বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই সংক্রান্ত ছ’টি নির্দেশিকা জারি করেছে। তার মধ্যে দিয়ে যৌনকর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। বেঞ্চ বলেছে, ”যৌনকর্মীরাও আইনের চোখে সমান সুরক্ষার অধিকারী। যখন এটা স্পষ্ট যে, যৌনকর্মী এক জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্মতি সাপেক্ষেই যৌনতা বিক্রি করছেন, তখন পুলিশকে অকারণ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও ফৌজদারি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাবে না। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ এই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার সুনিশ্চিত করেছে।”
Supreme Court হটাৎ কি হল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পির মিষ্টি বিলি যৌন পল্লীতে
Demand of enquiry asansol আসানসোলে কার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ? শিক্ষা নিয়োগ মামলা
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যৌনপল্লিতে পুলিশি অভিযানের সময় যৌনকর্মীদের গ্রেফতার, দণ্ডিত করা, হেনস্থা করা উচিত নয়। কারণ যৌনকর্ম বেআইনি নয়, শুধুমাত্র যৌনপল্লি চালানো বেআইনি। মা যৌনপেশায় আছেন, শুধু সেই যুক্তিতে সন্তানকে তাঁর মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি কোনও যৌনকর্মী যদি তাঁর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যান, তা হলে সেটিও সমান মনোযোগের সঙ্গে দেখবেন পুলিশকর্মী। বিশেষত, যদি যৌনকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা বা অপরাধের অভিযোগ নিয়ে আসেন, তা হলে দ্রুততার সঙ্গে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে, এক জন সাধারণ মানুষ যেমন সুবিধার অধিকারী, এক জন যৌনকর্মীর ক্ষেত্রেও তার অন্যথা করা যাবে না। কোনও ঘটনা ঘটলে যৌনকর্মীদের পরিচয় যেন প্রকাশ্যে না আসে, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট এই সুপারিশগুলোর ব্যাপারে কেন্দ্রের মতামতও জানতে চেয়েছে।

