স্কুলে ঢুকতেই দেখা গেল দুজন ছাত্রী উপর দিকে তাকিয়ে কি যেন খুঁজছে। প্রশ্ন করতেই বলল ..” ক্লাসরুম টা “। কেউ আবার মিড ডে মিলের জায়গাটা দেখে এল। জলের ট্যাঙ্কি বা কুয়া পার টা ঠিক আছে তো ? দুস্টুমি টা হবে কোথায়? চোখ ঘুরিয়ে সবাই যেন খুঁজে নিল সবাইকে। “ও এসেছে তো ? ” নিমেষের মধ্যেই জমে উঠল স্কুলের মাঠ থেকে শুরু করে ক্লাসরুম, বারান্দা, মাঠ। এই ও এসেছে
এতদিন ছিল নির্জন। জনপ্রাণী নেই বললেই চলে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে খুলল স্কুল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছাত্র ছাত্রী দের ভিড়। সময়ের আগেই এসেছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। নির্দিষ্ট কোভিড বিধি মেনে স্কুলের ঢোকার পর্ব। গোল গোল দাগে দাঁড়িয়ে হাতে সেনিটাইজার নিয়ে মুখে মাস্ক পরে স্কুলে প্রবেশ। যেন নতুন পৃথিবী।
করোনার কড়াল গ্রাসে ছাত্র ছাত্রী রা ভুলেছে স্কুলের ক্লাস রুম। কিছুটা নিয়ম নীতির বাইরেও হয়ে গেছিল। না আজ থেকে আবার নতুন করে স্কুলের ক্লাস রুমে। তবে বসার নিয়ম কিন্তু সম্পুর্ন আলাদা।
আসানসোলের সালানপুর ব্লকের কোনও শিশুই খাবার পেল না অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র
আর সেই বেঞ্চে আপাতত গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসা যাবে না। চলবে না খুনসুটি। শিক্ষক মহাশয় ব্ল্যাক বোর্ডের দিকে তাকালেই কানে কথা হবে না। সম্ভব হবে না মুচকি হাসি। কাছা কাছি ? সে তো নয় ই। বজায় রাখতে হবে দুরত্ব। হ্যাঁ এমনটাই দেখা গেল আসানসোলের ধাদকা নারায়ণ চন্দ্র লাহিড়ী বিদ্যমন্দিরে। স্কুলে প্রবেশের আগেই প্রধানশিক্ষক বুঝিয়ে দিলেন নিয়ম নীতি। স্কুলের প্রবেশ দ্বারে দেওয়া হল সেনিটাইজার। বহুদিন পর স্কুলে। পেন ও চকলেট দিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়া হল ছাত্র ছাত্রী দের।
মুখে মাস্ক পড়া ছাত্রী বললেন…আগের মত পরিবেশ না পেলেও মানিয়ে নিতে হবে। তবু আনন্দ। এ ভাবেই চলুক। চোখে মুখে দুষ্টতার ছাপ নিয়ে এক ছাত্র বলল..এ তো দারুন লাগছে। নতুন নতুন। শুধু তাই নয়…ক্লাস রুমে উঁচু স্বরে ছাত্রী রা বলছে …আবার ও ফিরে পাওয়া। স্কুল যেন জেগে উঠেছে। ছাত্র দের বুটের শব্দ। চিৎকার। ছুটোছুটি যেন উৎসবের রূপ নিয়েছে। তৎপর শিক্ষক শিক্ষিকারাও। এক শিক্ষিকা জানালেন…আগেও কয়েকদিন স্কুল হয়েছে।
এই ও এসেছে তো, স্কুলে ঢুকতেই দেখা গেল দুজন ছাত্রী উপর দিকে তাকিয়ে কি যেন খুঁজছে।
তারপর আবার করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ হয়েছে। তাই মাস্ক পরে পড়ানোর অভ্যাস অবশ্য ই আছে। তবে মুখবন্ধ অবস্থায় পড়াশুনা অথবা হাসি মজা হবে কি করে। ছাত্রী বলে…পুরোটাই অনুভূতি। কিছু হোক না হোক দেখা তো হবে সবার সাথে। শিক্ষক ছাত্র , কর্মচারী রা সবাই যেন একটা পরিবার। করোনার অভিশাপে দীর্ঘ 20 মাস ধরে তৈরি হয়েছিল দুরত্ব। আবার একান্ন বর্তী পরিবারের রূপ নেওয়ায় আপ্লুত সকলেই।

