গ্রামটির নাম জাম ডোবা, 77 বছর পর আসবে আলো, ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীকে, ধন্যবাদ তরুণ দা কে। গ্রামটির নাম জাম ডোবা। উন্নয়নের রোশনাই তে যেন ম্লান এই এই গ্রাম। অন্ধকারে বিলীন এই গ্রামে প্রায় 400 মানুষের বাস। নয় নয় করে 96 টি পরিবার। গোটা গ্রামের কপালে যেন অনুন্নয়নের ফোঁটা চক চক করছে। দিনের বেলা গ্রামের ছবি ধরা পড়লেও রাত্রে যেন অদৃশ্য হয়ে যায় গ্রাম। হ্যাঁ, এমনটাই ছবি আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের 87 নম্বর ওয়ার্ডের এই গ্রামটির। দীর্ঘ 77 বছর তথা স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বা আলো কেমন হয় তা জানতেই পারলো না এই গ্রামের বাসন্তী কিস্কু বা দিদিমণি কিস্কু রা। ট্রাক্টরের ব্যাটারিতে মোবাইল চার্জ করতে হয়, না হলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে আসতে হয় আসানসোল। মোবাইল চার্জ করতে।
দেখুন, রাত্রে অদৃশ্য কেন এই গ্রাম
মাটির দেওয়াল টালির ছাদের বাড়িতে আলো বলতে ঢিবরী বাতি। খুব কম বাড়িতেই আছে হ্যারিকেন। তাও কেরোসিনের অভাব। ক্ষমতা নেই কেনার। দিনের বেলা গাছের নিচ ই আশ্রয় ওদের। গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী কিস্কু বলেন, গ্রামে কখনো ই তিনি আলো দেখেন নি। গরমে কষ্ট হয় বাচ্চাদের। তাদের নিয়ে 24 ঘন্টার বেশিরভাগ অংশ ই পার করতে হয় গ্রামের রাস্তাতে বা গাছের নিচে। গ্রামের গৃহবধূ দিদিমণি কিস্কু বলেন, বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে অন্ধকার ই দেখছেন তিনি।
পড়াশুনা করান ওই ভাবেই। মোমবাতি বা ঢিবরী বাতিতে। অনলাইন পড়াশুনা তো দূর অস্ত। যদিও বা কয়েকটা ছোট মোবাইল আছে তাও চার্জ দেবার উপায় নেই। তবে এখনো আলোর আশা দেখছে তারা। ভোট আসে ভোট যায়। প্রতিশ্রুতি থেকে যায়। এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর এর কথা আবার অন্য। আলো আনার ব্যবস্থা করছেন তিনি। এর আগেও তৃণমূল কাউন্সিলর ছিল। কিন্তু হয়নি কিছু ই। কেন হয়নি তা বিস্তারিত না বলাই ভালো।

Invisible village, thanks to CM, কে এই তরুণ ?
আসানসোল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিভিন্ন জায়গা যখন আলোয় আলোকিত, কোথাও ত্রিফলা আবার কোথাও হাই মাস্ট লাইট, সে জায়গায় জাম ডোবা কেন অন্ধকারে তার উত্তর যেন রহস্য। স্বাধীনতার 77 বছর পর প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি অন্ধকার ঘুচবে এই গ্রামের। সন্ধ্যের পর দেখতে পাওয়া যাবে জাম ডোবা নামক অদৃশ্য গ্রামটিকে ? প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার আসানসোলে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ধমান দুর্গাপুর হয়ে আসবেন আসানসোলে। আগামী মঙ্গলবার আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ড এ সভা আছে তার। ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে আসানসোল। ঠিক সেই জায়গায় আর হয়ত অন্ধকার থাকবে না আসানসোলের 87 নম্বর ওয়ার্ডের এই গ্রাম। থাকবে না রাত্রের নীরবতা। আসবে আলো। জ্বলবে লাইট। মোবাইল চার্জ দিতে যেতে হবে না আসানসোল।

গ্রামবাসীদের ভরসা তরুণ দা। এ গ্রামের মানুষ ঠিকমত বলতে পারেন না যে তরুণ দা কাউন্সিলর। ঠিকমতো জানেন ও না তরুণ দা কোন দলের। চেনেন তরুণ দা কে। আর তরুণ দার আদর্শ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, অনেকে এলো। ভোট দিল। ভরসা তরুণই। এবার জ্বলবে আলো। মুছে যাবে সব অন্ধকার।

