টিকিট জ্ঞান, টিকিট ধ্যান, টিকিট চিন্তামনি। টিকিট ছাড়া , যেন মনিহারা ফণী। আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের 59 নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতি নিয়ে ই মীর হাশিম। ছিলেন কাউন্সিলর। হলেন এমআই সি। তারপর আবার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য। বেশ কয়েক বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আসানসোলের রাজনীতিতে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এখনো টিকিট জোটেনি তার। তবু শনিবার একটা ফর্ম নিয়েছেন তিনি। 59 নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা হতে গেছে। তাও কি কারণে ফর্ম নিলেন প্রাক্তন প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য মীর হাশিম। খোলসা করলেন tsnmnews এর ক্যামেরার সামনে। Election
সম্পুর্ন খবর দেখুন
তই নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক পারদ চড়ছে আসানসোলে। আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন এর 106 টি ওয়ার্ডেই এখন টানটান উত্তেজনা। তবে এই মুহূর্তে নির্বাচন বা জেতা হারার টানটান প্রতিযোগিতা নয়। এই মুহূর্তে প্রতিযোগিতা চলছে টিকিট পাবার বা টিকিট নেবার। কেউ টিকিট না পেয়ে দল ছেড়ে দেবার কথা বলছেন। আবার কেউ টিকিট না পেয়েও দলের বিরুদ্ধে যাবেন না বলছেন। কেউ আবার চুপিসারে নির্দল হিসেবে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। না , শুধু একটা দলের কথা বললে ভুল হবে। এক ই চিত্র দেখা যাচ্ছে শাসক দল বা বিরোধী দলের ক্ষেত্রে। যেমন আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের 59 নম্বর ওয়ার্ড, 21 নম্বর ওয়ার্ড, 27 নম্বর ওয়ার্ড, 20 নম্বর অকর্ড সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও বামেদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এখনো পরিলক্ষিত হয়নি।
শাসক দলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় মাপের নেতার এবার শিকে ছেড়েনি। যেমন প্রাক্তন প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য তথা আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রাক্তন জলমন্ত্রী পূর্ণসসি রায়, প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র তাবাসুম আরা, সহ বেশ কয়েকজনের কপালে এবার টিকিট জোটেনি। যদিও বড় পদের নেতা মীর হাশিমের আশা যে এখনো তিনি টিকিট পেতে পারেন। যদিও রবিবারের পর সোমবার শেষ দিন হবার কারণে শনিবারের দিন ই মির হাশিম হাতের পাঁচ হিসেবে ফর্ম তুলে রেখেছেন। অপর দিকে দলের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখ কে। যে কারণে পুরোনো রা আবার কংগ্রেস এও যোগদান করছেন।
Election: প্রার্থী হতেই হবে..টিকিট যখন লক্ষ্য
প্রার্থীরা কে কি বলছেন
লক্ষ্য একটাই। টিকিট নিতে হবে। হতে হবে কাউন্সিলর। শাসক দল বা বিরোধী বিজেপির ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। শনিবার বিজেপির পক্ষ থেকে রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন মন্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে রাজ্য নেত্রী রাও। তাদের বক্তব্য.. বিজেপির কিছু নেতা তাদের ইচ্ছেমত চলছে। যারা শুরু থেকে কাজ করে এসেছে তারা টিকিট পাচ্ছে না। সে কারণে দল ত্যাগ না করলেও নির্বাচনে কাজ করবে না বলে জানালেন তারা।
পড়ুন আরো খবর
শুধু তাই নয়। আসানসোল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেসনের প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যান গুলাম সর্বর এর কপালেও জোটে নি তৃণমূলের টিকিট। অগত্যা তিনিও যোগদান করেন কংগ্রেসে। একসময় কংগ্রেস থেকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। আবার ঘরে ফিরলেন টিকিটের আশায়। এমনটাই মিনে করছে রাজনৈতিক মহলে। অর্থাৎ সহজেই বলা চলে টিকিট ই যখন মূল। টিকিট যখন রাজনীতি। টিকিট যখন অভিমান। টিকিট যখন হাসি। টিকিট যখন খুশি। টিকিট যখন ভবিষ্যৎ।
প্রসঙ্গত এমন জায়গায় পরিস্থিতি পৌঁছেছে যে রাজনীতির দরজায় প্রবেশ করে ই বেশ কিছু মানুষ পৌঁছে যাচ্ছেন মনোনয়ন কেন্দ্রে। কেউ না দিলেও নির্দল আছে। যদিও এখনো বড় নেতাদের দিয়ে সুপারিশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু নিচু তলার কর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে…দল আগে না টিকিট আগে ! দলে থেকেও অনেক কাজ করা যায় বলে মত পোষণ করছে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু সমর্থক দের মতে…দীর্ঘ দিন ধরে দলের হয়ে কাজ করেও টিকিট না পাওয়া সহ্য করতে পারছে না তারা। যে কারণে এই মুহূর্তে টিকিট ই প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। কিন্তু ঠিক কি কারণে টিকিটের এত চাহিদা? টিকিট পেলে কি করবেন? না পেলে কি করবেন? কি ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবেন? কি বোঝাবেন মানুষকে ?
সে সব জানতেই প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি tsnmnews। দেখুন রোজ রাত্রে…

