ছবি দেখলে অবাক হতে হয়। কি ভাবে লুট হচ্ছিল বন্ধ কারখানার যন্ত্রাংশ। লুট আটকাতে দিনের বেলায় একটি মাত্র সিভিক এ যেন ঢাল তরোয়াল হীন নিধিরাম সর্দারের গল্প, এ এক অবাক দৃশ্য। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় 150 ফুট উপরে কিছু যুবক। কেউ ঝুলে ঝুলে হাঁটছে। কেউ আবার আধশোয়া হয়ে এগোচ্ছেন। উদ্দেশ্য বন্ধ কারখানার যন্ত্রাংশ বা লোহা কেটে নেওয়া। শুধু তাই নয়, উপর থেকে যুবক রা সাংবাদিকদের ধমকি ও দিচ্ছেন যে সরে না গেলে উপর থেকে লোহা ফেলে দেওয়া হবে। হ্যাঁ এমনই ছবি উত্তর আসানসোলের শিল্প তালুকের এক বেসরকারি কারখানার। কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা এই ঘটনার পর বিশালাকার চিমনি ভেঙে পরে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। জেগে ওঠে প্রশাসন। মোতায়েন কড়া হয় সিভিক পুলিশ। কিন্তু দিনের বেলা একজন মাত্র। রাত্রে নাকি দু জন হয়।
কিন্তু সে সিভিকের দশা শুনলে অবাক হবেন। বিশালাকার কারখানার এক বিল্ডিং এর নিচে তার স্থান। নেই কোনো থাকার জায়গা। চতুর্দিকে ছড়িয়ে কাঁচ। চারিদিকে ঘন জঙ্গল আর ভেঙে পড়া লোহার যন্ত্রাংশ। মাঝে মাঝে গোটা কারখানা ঘুরে দেখতেও হয় থাকে। কিন্তু কারখানার কলেবর এত ই বিশাল যে একদিকে ঘটনা ঘটলে আর একদিক সামলানো দায়। তবু দায়িত্ব পালন করছেন। ভয় থাকলেও মুখে বলার উপায় নেই। ঘটনা ঘটলে মোবাইল এ থানা কে খবর দেওয়া ছাড়া কোনো হাতিয়ার ও নেই। তবু তিনি বলেন যে কোনো অসুবিধা নেই। ঠিক ই আছে।
অবাক করা ভিডিও
প্রচুর নির্বাচনী ভিডিও..খবর দেখুন
কারখানার বিশালাকার বিল্ডিং ছাদ বিহীন। বিম ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল পূরণ এলাকায় কিছু লোহার পরিকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। বাকি সব ই লুট হয়ে গেছে। সাত বছরের ও বেশি সময় ধরে লুট চলেছে। যে সব লোহা সহজে নিয়ে যাবার উপায় ছিল তা নিয়ে গেছে চোরেরা। এখন যা আছে তা নিয়ে যাওয়া কঠিন। তবু পাহারা আছে। যা গেছে তা যাক। আর নতুন করে কিছু না হয় তার লক্ষ্যে প্রশাসন।
সূত্রের খবর কারখানা বন্ধ হবার পর থেকেই প্রশাসনের অধীনে ছিল সম্পত্তি। কোনো এক বিখ্যাত চিট ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগ ছিল ও বলে সূত্রের খবর। সে কারণেই ছিল প্রশাসনিক পাহারা। তাও লুটের ছবি প্রকাশ্যে। এখন কারখানার অংশ বিশেষ রক্ষা করতে ঢাল তরোয়াল বিহীন নিধিরাম সরদার কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

