Saturday, April 25, 2026

যৌনপল্লীতে প্রশাসন

যৌনপল্লী থেকে নাবালিকা উদ্ধার অভিযানে চাঞ্চল্য কুলটি এলাকায়। ঘটনা সুত্রে জানা যায় কুলটির নিয়ামত পুরের লছিপুর যৌন পল্লীতে নাবালিকাদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হচ্ছে এই রকম অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ পসচিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ এই অভিযান চালায়। এই অভিযানে প্রায় 50 জন মেয়ে ও যুবতী দের আটক করা হয়। চাইল্ড রাইট কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে, পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক বিভু গোয়েল ও আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার অজয় ​​কুমার ঠাকুরের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যায় আধিকারিক ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে এই অভিযান করা হয়।

সম্পুর্ন খবর ও ভিডিও দেখতে ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন ” tsnm news ”

চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, আমাদের কাছে খবর ছিলো যে, এই যৌন পল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে ব্যবসা করানো হচ্ছে। তার ভিত্তিতে এর তদন্ত করে অভিযান চালানো হয়। এখান থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের পরীক্ষা করার পরে বাড়ির খোঁজ করে যার যার বাড়িতে পাঠানো হবে। তদন্ত করার পর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের হোমে পাঠানো হবে বলে জানান।

পাশাপাশি করণা মহামারীর সময় যখন সব জায়গায় নাইট কারফিউ লাগু করা হয়েছে আর এই নাইট কারফিউ সময় রাত নটার পর বাজার দোকানপাট বন্ধ ঠিক সেই সময় জমে উঠতো দিশা জনকল্যাণ কেন্দ্রের ভেতরের বাজার এমনই অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের আর এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে জেলাশাসক বিভু গোয়েল জানালেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে কিছু দোকানদার ব্যবসা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর দিকে নাইট কার্ফু নিয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় ঠাকুর বলেন যে আজ জানতে পেরেছি এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যৌনপল্লীতে প্রশাসন

তাহলে প্রশ্ন উঠছে সব জায়গায় যখন নাইট কারফিউ চলছে এর ফলে সাধারণ মানুষরা বাইরে বেড়ানো নিষিদ্ধ সেই সময় কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে কিভাবে রাত্রে বেলায় আরেক বাজার খোলা থাকে যেখানে এই বাজার শুরু হয় সন্ধ্যার পর সারারাত ধরে চলে এই বাজার। নাবালিকা উদ্ধার অভিযানের ঘটনা না ঘটলে হয়তো জানা যেত না এই বাজারের কথা। তাহলে কি এই বাজার নাইট কারফিউ আওতার বাইরে? প্রশ্ন উঠছে – যারা আজ পুলিশের হেফাজতে তারা কারা ? কোথা থেকে এসেছে ? আদৌ কি তারা স্বেচ্ছায় এসেছে নাকি নিয়ে আসা হয়েছে ? তদন্ত করছে পুলিশ। কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগায় কি ভাবে এত ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত বলা যায় , আসানসোলের কুলটি থানা এলাকার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত লছি পুরের যৌন পল্লী বা ব্যবসা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বার ই এই রকম আচমকা হানায় প্রচুর নাবালিকা এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মহিলাদের আটক করা হয়েছে। আবার ও কিছুদিন পরেই এক ই ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। তবে করোনা আবহে রাতের অন্ধকারে প্রশাসন কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নাইট কারফু উলঙ্ঘন করে ব্যবসা চালানোকে নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে ঠিক তেমন ই প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিক দের এ হেন হানা এবং নাবালিকা উদ্ধার কে সাধুবাদ ও জানিয়েছে অনেকেই।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles