তৃনাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় / পশ্চিম বর্ধমান- পুলিশ, সে তো শুধু পুলিশ নয়। ভাবনা চিন্তা সমেত একজন মানুষ। লক ডাউন বা করোনার কালো ছায়ার গ্রাসে সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা ভাবিয়ে তুলেছে তাকে। আর তাই ভেবে পরিত্যক্ত সাইকেলের রিং, ওয়াসার, চেন দিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন বিশাল বিশাল মডেল। যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে সাইকেল এর চাকাই কেন ? কেন বা সাইকেলের রিং অথবা শাবল ? প্রসঙ্গত শিল্পাঞ্চল তথা কয়লাঞ্চলে সাইকেল অতি গুরুত্বপূর্ণ। রুটি রোজগারের আশায় কয়লা বিক্রি হয় সাইকেলের মাধ্যমে। কয়লাখনি থেকে কয়লা বস্তায় ভরার পর সাইকেলের বিভিন্ন অংশে বেঁধে তা কিলো মিটারের পর কিলোমিটার চলে যায় বিক্রির জন্য। এবং বিক্রির পর যে আর্থিক উপার্জন তা দিয়ে অনেক সংসার ই চলে।
অপর দিকে কয়লা কাটা বা কয়লা ভাঙার একমাত্র হাতিয়ার হল শাবল। যা দিয়ে কয়লা খনির কয়লা ভেঙে বের করা হয়। কয়লা কাটার আগে যে মাটি কাটা হয় তাতেও প্রয়োজন হয় শাবল এর।কথায় বলে শাবল যত নোংরা ও কালো থাকে ততই উন্নতি। আবার মজদুরের পরিবারের শাবল কখনো উল্টো করে রাখা হয় না। কিন্তু লক ডাউন এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে শাবল উল্টো হয়ে গেছে। সাইকেলের রিং এও জং ধরেসি
কথায় বলে ভাগ্যের চাকা নাকি সবসময় ঘোরে। আর চাকা আবিষ্কার ? সে তো ইতিহাস। সমাজের অগ্রগতির মূল হাতিয়ার চাকা। আর সেই চাকা কেই সঙ্গী করে সালানপুরের পুলিশ কর্তা তৈরি করেছেন একের পর এক মডেল। তবে শুধু মডেল নয়। প্রত্যেকটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অতি উন্নতমানের চিন্তা ভাবনা । কোথাও রয়েছে শিক্ষা। কোথাও আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি। কোথাও উপার্জন। কোথাও সংসার চালানোর বাস্তব চিত্র। সব কিছুই যেন পরিস্ফুট হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুরের আই সি পবিত্র গাঙ্গুলির দৃষ্টি ভঙ্গিতে। এ যেন এক বিরল নিদর্শন। শিল্পাঞ্চলের মূল জীবিকা নির্ভর সাইকেলের যন্ত্রাংশ, আবার কয়লা খনির অতি প্রয়োজনীয় শাবল আবার গ্রামাঞ্চলের মাছ ধরার ভাবনা কে বাস্তব রূপ দিয়ে , ঘোড়া তৈরি করে শিকল ছেঁড়ার সপ্ন ও দেখিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সে তো শুধু পুলিশ নয়, ভাবনা চিন্তা সমেত একজন মানুষ
পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুরের পুলিশ ইন্সপেক্টর মনে পরিয়ে দিয়েছেন পুরোনো ইতিহাস। অগ্রগতির মূল হাতিয়ার চাকা। আর সেই চাকা দিয়ে তৈরি করেছেন উন্নতির শিখর। যাতে রয়েছে সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাবার মডেল। সামনের চাকা উঁচুতে। পুলিশ ইন্সপেক্টর পবিত্র গাঙ্গুলির কথায়– উন্নতির শিখর এর উচ্চতা মাপা যায় না। তবে আপাতত 39 ফুট উঁচু করা গেছে। যতই লক ডাউন বা করোনা থাক আমাদের দেশের বা রাজ্যের ছেলেমেয়েরা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে ই।
তার এমন কাজ । অবাক করেছে অনেক কেই।
শুধু তাই নয়। পরিত্যক্ত সাইকেল এর যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করেছেন লক ডাউনের মডেল। যেখানে শ্রমিকের পেটে শাবল ঢুকেছে। খাদ্যাভাব। কাজ নেই। কয়লাঞ্চলে কয়লা কাটার অন্যতম হাতিয়ার শাবল টা উল্টো হয়ে আছে। বোঝাতে চেয়েছেন পরিস্থিতি আক্রমণ করেছে পেট কে। তবু লড়াই চলছে। মাছের জাল নিয়ে মেয়েরা মাছ ধরছে। প্রসঙ্গত লক ডাউন বা করোনা কে কেন্দ্র করে সালান পুরের আই সি এর এ হেন চিন্তা ভাবনা প্রশংসা পেয়েছে সব মহলেই। তবে পরিত্যক্ত সাইকেল এর যন্ত্রাংশ দিয়ে এত বিশালাকার প্রাসঙ্গিক মডেল বিরল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তার পর পুলিশ ! তার এমন কাজ । অবাক করেছে অনেক কেই।

