তৃনাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় :- তাপস বাবুর হুঙ্কার, অবশেষে প্রায় 24 ঘন্টা পর উদ্ধার হল তিন কর্মীর নিথর দেহ। চোখের জলে ভাসল বাঁকুড়া, হরিশ্চন্দ্র পুর সহ রানীগঞ্জের মঙ্গলপুর। প্রশ্ন উঠেছে কে নেবে দায়ভার। অপরদিকে গতকাল বিকেলে থেকেই আতংক ছড়ায় জামুড়িয়ার বেসরকারি কারখানায়। হ্যাঁ, শুনলে অবাক হবেন। দুটো ঘটনাই এক ই কারখানা র দুই সেক্টর এ।
বিখ্যাত স্যামসেল কারখানার রানীগঞ্জের কাছে মঙ্গলপুর ছাই এর ট্যাংক ভেঙে ছাপা পড়েছিল চার শ্রমিক। একজনকে সেই মুহূর্তে কোনোভাবে উদ্ধার করা গেলেও বাকি তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে ই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল পুলিশ, দমকল, উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ চেষ্টার পর উদ্ধার আরো তিন। তবে তাদের নিথর দেহ। কাজে গিয়ে আর বাড়ি ফিরতে পারল না তারা।
ঘটনার রেশ কাটতে কাটতে না কাটতেই উক্ত কারখানার জামুড়িয়া ব্রাঞ্চে ভয়াবহ আগুন। বিধ্বংসী আগুনে ছড়িয়েছিল আতংক। পরে গেছিল ছুটোছুটি। যদিও বেশ কিছুক্ষণ পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু পরপর দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেক। রানীগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক তথা এডিডিএ এর চেয়াম্যান তাপস বন্দোপাধ্যায় সম্পুর্ন ভাবে দায়ী করেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ কে। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন সম্পূর্ন গাফিলতি কারখানা কর্তৃপক্ষের। কি ভাবে ছাই এর ট্যাঙ্কি ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল কারখানার ওই অংশ। কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পিলার নড়বড়ে হয়ে গেল। ভেঙে গেল। মৃত্য হল তিনজনের। কে নেবে দায়ভার।
বিখ্যাত স্যামসেল কারখানার রানীগঞ্জের কাছে মঙ্গলপুর ছাই, তাপস বাবুর হুঙ্কার
কারখানা গুলো চলছে নিয়ম না মেনে ই। সেফটি সিকিউরিটির তো বালাই নেই। দূষণ থেকে শুরু করে কিছুই মানা হচ্ছে না। মৃত্যুর ঘটনায় এফ আই আর করা উচিত। তার সঙ্গে কারখানায় চলছে দালাল রাজ। বেশ কিছু দালাল রাখা হয়েছে যারা শ্রমিক দের মুখ বন্ধ করছে। ক্ষতিপূরণ , টাকা পয়সা দিয়ে জীবন কেনা যায় না।
COAL SCAM BREAKING ..বিকাশ মিশ্র আসানসোলে
যদিও কারখানা অধিকারীর সুমিত বাবু টেলিফোনে জানিয়েছেন…একজন এমিনেন্ট পারসন এর কথার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলা উচিত নয়। তবে কোম্পানি সব নিয়ম মেনে চলে। বহু সংস্থা এসে নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে কি না তার পরীক্ষা নিরীক্ষাও করেন। প্রসঙ্গত..পশ্চিম বর্ধমান জেলার বেশ কয়েকটি বেসরকারি কারখানায় এমন ঘটনার খবর আগেও মিলেছে। কিন্তু সমাধান সূত্র বের হয়নি। আন্দোলন হয়। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে আর না হবার ব্যবস্থা করা হয় না বলে অভিযোগ। তবে শ্রমিকদের শব্দ বিধায়কের গলায় উচ্চারিত হওয়ায় আশার আলো দেখছে সকল কর্মীরা।

