Friday, April 24, 2026

কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী ও জীবন দর্শন

তুষার চট্টোপাধ্যায় – রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শন “যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই , যাহা পাই তাহা চাই না” কবিগুরুর এই চুক্তির মধ্যেই আছে মানব জীবনের এক মহাসত্ত । ঠিক ই তো। তিনি ছিলেন দূরদর্শী এবং জীবন পথের এক মহা দার্শনিক। তার সুগভীর বাস্তব অন্তর্দৃষ্টি আমাদের শিখিয়েছে অনেক কিছু, তবু আমরা অর্বাচীন। শেখালেও শিখি না। মূল বিষয়ে যাবার আগে দেখে নেওয়া যাক – ভুল বিষয় তা কি ? কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী

ভুল শব্দ টির অর্থ ব্যাপক এবং অতলান্তিক। প্রকৃত ভুলের মূল্যায়ন করা সত্যি অসম্ভব। তবু চেষ্টা তো করা যেতে ই পারে। জীবনে ছোট বড় ঘটনা অনেক ঘটে যার মধ্যে বাস্তবতা যেমন আছে তেমন ই আছে বেশ কিছু আবাস্তবতার প্রকাশ। যে গুলিকে আমরা কখনো ভুল বলে থাকি কারন তার ব্যাখ্যা অজানা। মানুষ ভুলের বালুচরে বাসর যেমন নির্যাস করে তেমন ই ভুল করে ভুলের মাশুল দেয় — তাই বলা যায় ভুল হল এক স্মারক। শুষ্ক মরুময় জীবনে ভুল মরীচিকার মত মানুষকে প্রলুব্ধ করে এবং সেই ভুলের খেসারত দিতে দিতে ই শেষ হয়ে যায়।

একটা জীবনে তবু ভুলের দেনা শোধ হয় না। জেনে বুঝেও মানুষ সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। কেউ কেউ সেই ভুলের প্রতিহিংসা নিতে প্রয়াস পায় আবার কেউ নিজেকে অনুশোচনার অগ্নিদহনে দাহ্য করে। তাই আশা যেমন যায় না তেমন ই ভুলের কোনো সংজ্ঞা ও হয় না। আমাদের চাওয়া পাওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। সব চাওয়া যে সব সময় অবাস্তব তা নয়, আবার এই বৈপরীত্য নিয়ে মানুষের জীবনে চাওয়া পাওয়ার নিয়ত সংঘাত। আর সেই মানসিক সংঘাত উন্মুক্ত করে দেওয়া এক নতুন দিগন্ত ভাবতে শেখায় যে জীবন পথে সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী

কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী ও জীবন দর্শন

আমাদের অনেক চাওয়া ই কিন্তু ভুল — বলা ভালো সেগুলো বালির বাঁধ অথবা কাঁচের স্বর্গ। কারন এগুলো ক্ষণস্থায়ী বাস্তবে যা অস্তিত্ব হীন। তবু কল্পলোকের পাখ পাখালীতে ভর করে মানুষ ভুলের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মানসিক ভাবে জীর্ণতা প্রাপ্ত হয় এবং সারাজীবন সেই ভুলের মাশুল গুনে যায়। ভুল করে চাওয়া আর না চেয়ে পাওয়া মানব জীববে অহরহ ঘটেই চলেছে। এই চাওয়া না চাওয়া পাওয়া না পাওয়ার চিরায়ত দ্বন্দ্ব ছিল আছে আর থাকবেও জীবনের অঙ্গীভূত হয়ে।

চাইলেই যেমন এই ভব সংসারে সব কিছু পাওয়া যায় না তেমন ই না চাইলে কিছু পেলে তা সবসময় রক্ষা করা যায় না। কারন অযাচিত প্রাপ্তি কখনো কখনো মূল্যহীন হয়ে পরে। না চাইলে যা পাওয়া যায় বা নিজে এসে হে ধরা দেয় তার অবমূল্যায়ন করা আত্মদহনের সামিল। তাকে সযত্নে সুরক্ষিত রেখেই জীবনচর্চা পরিচালনা করাই প্রকৃত প্রশান্তি। আমরা জানি কস্তুরী সুগন্ধ অতীব আনন্দদায়ক এবং মন কে যথেষ্ট পুলকিত করে। কিন্তু তাও তো চিরস্থায়ী নয়। কালের নিয়মে তার ও অন্তরজলি যাত্রা ঘটে।

সেই কস্তুরী কে নিজের করে পাবার আশায় বনে বনে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা কি সমীচীন ? সুতরাং না চাইলে যা পাওয়া যায় তার মূল্যায়ন বাস্তবে অসম্ভব । কারন চাইলে তো অনেক কিছুই পাওয়া সম্ভব তা অর্থের বিনিময়ে হোক বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। কিন্তু তা কি চিরস্থায়ী হয় ?যেহেতু অর্থের দম্ভ শক্তির দম্ভ সেই প্রাপ্ত জিনিসের অবমূল্যায়ন ঘটায় আর প্রাপকের অহংকার প্রকাশ পায়। মানুষের চাওয়া অন্তহীন হলেও পাওয়া কখনো ই অন্তহীন নয়। সেই সীমাহীন চাওয়া ই হিংস্র দুর্বিনীত করে তোলে।

রবীন্দ্র নাথের জীবন দর্শনের একটি বিশেষ দিক হল

তাই অন্তহীন চাওয়ার অপরিতৃপ্ততা তাকে বিচলিত করে আর ভুল বাড়তেই থাকে। আর না চাইলে যা পাওয়া যায় বা সঠিক মূল্যায়ন করলে জীবনের চলার পথ মসৃন হয়। তাই চাওয়া পাওয়ার দ্বন্দ্বে নিজেকে জড়িত না রেখে পাওয়ার আনন্দে বিভোর থাকাই বিধেয়। রবীন্দ্র নাথের জীবন দর্শনের একটি বিশেষ দিক হল ” সত্যেরে লও সহজে “। এই ভাবনার আলোকে বলা চলে – চাইলেই তো সবকিছু পাওয়া যায় না- আবার পেলেও সব কিছু সব সময় রক্ষা করা সম্ভব নয়। চাওয়া পাওয়ার দ্বন্দ্ব নিয়েই মানুষের জীবন। তাই সত্য কে সাথী করে জীবনকে সুপরিকল্পিত ভাবে পরিচালনা করাই শ্রেয়। কারন সত্য ই সুন্দর। সত্য ই বাস্তব ।

শর্মিলা চন্দ্র – হে কবি তুমি অমর রহো…

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর জীবনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বলা যায় এক শ্রেষ্ঠ পুরুষ। তাঁর রচিত গানগুলি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িত। শৈশব থেকে কৈশোর, যৌবন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলা চলে।
তিনি একাধারে যেমন ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিক তেমন সংগীতকারও ছিলেন বটে। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা বাঙালীর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে চলেছে। তাঁর দার্শনিকতা এবং চিত্রশিল্পীর প্রতিভাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সেই দিন গুলো তাঁর কাছে বদ্ধজীবনের মতো ছিল

ছোট থেকে প্রথাগত শিক্ষালাভ করেননি। গৃহশিক্ষকের কাছেই তাঁর শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়া চলেছিল। স্কুলের বাঁধাধরা গণ্ডীতে পড়াশোনা তাঁর কোনওকালেই পছন্দ ছিল না। তাই স্কুলে ভর্তি হলেও বেশিদিন সেখানে শিক্ষালাভ করতে পারেননি। সেই দিন গুলো তাঁর কাছে বদ্ধজীবনের মতো ছিল। আসলে তিনি ছিলেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো। চারিদিকে যাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। সেই কারণে বাঁধাধরা গণ্ডীর মধ্যে তিনি থাকতে পারেননি। আর এখানেই তিনি অন্যদের থেকে ছিলেন একেবারে আলাদা।

প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও তাঁর লেখনী কিন্তু তাঁকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল। রবীন্ত্রনাথ বলেই হয়তো সম্ভব হয়েছিল। আর সেই কারণেই তিনি বিশ্বকবি বা কবিগুরু হিসাবে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৮৬১ সালের ৭ মে জোড়াসাঁকোর ঠাকরবাড়িতে ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেই ভালোবাসতেন। তিনি প্রকৃতিকে উপলবদ্ধি করতে পছন্দ করতেন। তাঁর লেখার মাধ্যমে তিনি তা ফুটিয়েও তুলেছিলেন।

তাঁর একটি বিশেষ প্রতিভা হল তিনি ৭০ বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু করেন

রবীন্দ্রনাথ একটা সময় বিদেশে পড়াশোনাও করতে যান। কিন্তু কলকাতার টানে তিনি ইংল্যান্ড থেকে আইন পড়া পুরোপুরি শেষ না করেই ফিরে আসেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গল্প লেখা শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথের জীবন খুব একটা সহজ ছিল এমনটা কিন্ত নয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে হারিয়েছিলেন মাকে। শান্তিনিকেতনে যখন ছিলেন তখন মাত্র কয়েক বছরের হেরফেরে হারিয়েছিলেন স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাকে হারান তিনি।

পুনর্বাসন বাস্তবায়িত

এর কয়েকদিন পরেই ১৯০৫-এ তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। এইসব ঘটনা তাঁর জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। এই সময়ে তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে কবিগুরু বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও তিনি কলম ধরেছিলেন। যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলা যায়। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

তাঁর একটি বিশেষ প্রতিভা হল তিনি ৭০ বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু করেন। ছবি আঁকাতেও তাঁর প্রথাগত শিক্ষা ছিল না। তারপরেও তিনি প্রায় দু’হাজার ছবি এঁকেছিলেন। মৃত্যুর সাতদিন আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর সৃষ্টিকার্য চালিয়ে গেছেন। তাঁর দৈহিক মৃত্যু ঘটলেও তিনি বাঙালীর জীবনে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তাই বলতেই হয় হে কবি তুমি অমর রহো…

তদন্ত শুরু 600 কোটির

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

3,425FansLike
5,491FollowersFollow
2,341FollowersFollow
5,439SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles