দার্জিলিং- চোখের জল যেন থামতেই চায় না। নিস্তব্দ গ্রামে যেন সৎপাল আজ ছবি। আজ আর ” শান্তা মায়ার ” খবর নেওয়ার কেউ নেই। মুসকানের পড়াশুনার খবর নেওয়ার ও কেউ নেই। মুসকানের হাসি আজ যেন কান্নায় পরিণত হয়েছে। চোখের জলে দিন কাটছে সৎপালের স্ত্রীর। তার পরিবারের। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল তরতাজা সৎপালের বীর চিত্ত কে। চেনা মুখ যেন আজ ছবি দার্জিলিং এর নিজভূমি তে। মুসকানের হাসি
শেষ বারের এসেছিলেন সৎপাল। ফিরে গেছিলেন 21 তারিখ। বাড়ির সবার খবর নিয়ে যান। মুসকানের পড়াশুনার বিষয়ে বলে যান। তার কিছুদিন পরেই দুর্ঘটনা।
ইচ্ছে ছিল রাওয়াত সাহেবের সঙ্গেই অবসর নেবার 2024 সালে। 2024 না এলেও পৃথিবী থেকে অবসর নিলেন রাওয়াত সাহেবের সঙ্গেই। 4 বছর আগে সিকিমে এসে রাওয়াত সাহেবের চোখ পড়েছিল সৎপাল এর উপরে। করে নিয়েছিলেন দেহরক্ষী।
আজ পরলোকে তারা। 2024 যেন 3 বছর এগিয়ে এল। 2021 এ একসাথেই অবসর নিলেন রাওয়াত…সৎপাল। ‘রাওয়াত স্যারের সঙ্গেই অবসর’ বলেছিলেন, সৎপাল দার্জিলিং-এর সৎপাল রাই, চারবছর আগে যখন সিকিমে বিপিন রাওয়াত এসেছিলেন, তখনই তাঁর চোখে পড়ে যান সৎপাল। তারপর, থেকে বুধবার কপ্টার দুর্ঘটনা পর্যন্ত চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের সঙ্গী ছিলেন তিনি।

বৃহষ্পতিবার হঠাৎই সৎপাল রাই-এর যাত্রা স্তব্ধ হয়ে গেল। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা কেড়ে নিল বিপিন রাওয়াত ও তার দেহরক্ষী সৎপালের প্রাণ। শেষ বারের মতো দার্জিলিং জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে নিজভূমিতে সৎপাল এসেছিলেন মা শান্তামায়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে। গত ২১শে নভেম্বরই তিনি দিল্লি ফিরে যান তিনি। যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বলে যান
নেই মুসকানের হাসি । বন্ধু চল। বৃদ্ধাশ্রমে আধার। প্রশাসক
২০২৪ সালে অবসর প্রাপ্তির পর গ্রামেই চলে আসবেন পাকাপাকিভাবে। মেয়ে মুসকানকে পড়াশোনায় মননিবেশ করার কথা বলে যান। সৎপাল রাই-এর মা ও স্ত্রী জানান যে, সৎপাল ছিলেন সেনা অন্ত প্রাণ, বিপিন রাওয়াত স্যারের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন সৎপাল, তাই সৎপাল বলেছিলেন যে, রাওয়াত স্যারের সঙ্গেই অবসর গ্রহণ করবেন। হঠাৎই, এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার আঘাতে সৎপালের সমস্ত ইচ্ছে, বাসনা, স্বপ্ন সবকিছুই অপূর্ণ রয়ে গেল।
আরও খবর :- মেদিনীপুর- এই স্কুলে যাবি না ? কেন যাবি না? স্কুল তো খুলে গেছে। স্যার দিদিরা আসছে।
তোরা আসছিস না কেন ? কি হয়েছে তোদের ?
দেখ , স্কুলে ঘন্টা বাজছে। আমরা তো গেছিলাম।
বন্ধু চল…রোদ্দুরে…তোর স্কুলে..একসাথে হাত ধরে
হ্যাঁ, এমন ই ছবি ধরা পড়ছে মেদিনীপুর জেলার টুকুরিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুল খুললেও আসছে ছাত্র ছাত্রী। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা। আসুন দেখে নি ঠিক কি ছবি ভেসে আসছে. সহপাঠীরা আসছে না স্কুলে, একাধিকবার স্কুল শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই সহপাঠীদের স্কুলে ফেরাতে বাড়ি বাড়ি ছুটল শিক্ষকদের সাথে স্কুল পড়ুয়ারা।
একাধিকবার শিক্ষকরা ছুটে যান ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে, স্কুলমুখী করার জন্য।
জানাযায় করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে রাজ্য সরকারের ঘোষণা মতোই স্কুল খুলে বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলমুখী করবার জন্য ছাত্র ছাত্রী দের বাড়ি গিয়েছে শিক্ষকরা । এবারে নতুন বিপাকে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার টুকুরিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ১৬ তারিখের পর থেকেই স্কুল খোলার পর শিক্ষকরা পড়েছিলেন মহা বিপাকে, তার কারণ বেশিরভাগ ছাত্রই স্কুলে আসছিল না,
সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে শিক্ষকরা ছাত্র ছাত্রীদের বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলের রেজিস্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এক দুই দিন পর যেই কে সেই স্কুলে আসা বন্ধ অনেক ছাত্রছাত্রীরা।
একাধিকবার শিক্ষকরা ছুটে যান ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে, স্কুলমুখী করার জন্য। কিন্তু একাধিক অজুহাত শুনে শিক্ষক দের ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। তাই এবারে সেই সমস্ত ছাত্র ছাত্রী দের স্কুলে ফেরাতে শিক্ষকদের সাথে বাড়ি বাড়ি ছুটল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তারা গিয়ে বলছে বন্ধু তুই চল, ভুল করিস না, এই বলে স্কুলের ফেরানোর উদ্যোগ নিল তারা ।
বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে টুকুরিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল খোলার আগেই সকাল সকাল অনিয়মিত স্কুলে আসার ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে গেল। ছাত্র ছাত্রী থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে ও ছাত্র ছাত্রীদের সাথে কথা বলে।
আরও খবর :- বৃদ্ধাশ্রমে আধার- স্বামী, সন্তান,স্ত্রী বা পরিবার কে হাতের কাছে না পেলেও পেলেন সরকারকে।
স্বামী, সন্তান,স্ত্রী বা পরিবার কে হাতের কাছে না পেলেও পেলেন সরকারকে। পেলেন পোস্ট অফিস কে। পেলেন আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কে। হয়ত অনেকেই স্বীকৃতি দেন না এনাদের বা স্বীকৃতি দিতে চান না বাড়ির লোক। কিন্তু আজ স্বীকৃতি পেলেন তারা সরকারের পক্ষ থেকে।

বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক রা পেলেন আধার কার্ড। পোস্ট অফিসের কর্মীরা আসানসোলের হিরাপুর বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দিলেন কার্ড। আর কার্ড পেয়ে খুশি সকলেই।
কেউ জানালেন যে তার কার্ড ছিল না। আবার কেউ জানালেন যে তার আধার কার্ড থাকলেও যাদের সাথে থাকেন তাদের ছিল না। নির্জন সুন্দর শান্ত পরিবেশে ছেলে মেয়ে সন্তান আত্মীয় স্বজনের থেকে দূরে থেকেও আজ যেন তারা আপন করে নিলেন সরকারকে।

