ছাত্র জীবন টা ছিল মসৃন। ইংরেজি মাধ্যম থেকে বাংলায় আসা। ঐতিহাসিক রেসাল্ট। আবার ক্লাব জীবনটাও ছিল অদ্ভুত। আড্ডা, গল্প, পুজোর দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- কিছু ই বাকি নেই। তারপর রাজনৈতিক জীবন। না চাওয়ার রাজনীতি। দীর্ঘদিন রাজনীতির পর ছোট একটা পদ। কাউন্সিলর তাও ইতিহাস। দুর্নীতির কালো ছায়া তার ত্রিসীমানায় পৌঁছাতে পারে নি। নেই কোনো বদনাম। নেই কোনো অপবাদ। ছিল না কোনো হুমকি ধমকি। শুধুই ভালোবাসা। ডাকত লোকে সান্নি বলে। বয়স্ক রা বলতেন বিশু পাঞ্জাবির ছেলে। উত্তর আসানসোলের ধাদকা এলাকার সান্নি। ধাদকা নারায়ণ চন্দ্র লাহিড়ী বিদ্যামন্দিরের প্রাক্তনী। শুধু প্রাক্তনী ই নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতায় অতুলনীয়। ধাদকা স্কুলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ছাত্র যে বাণিজ্য বিভাগ থেকে প্রথম ফার্স্ট ডিভিশনে উত্তীর্ণ।
খেলাধুলা থেকে সংস্কৃতি সর্বত্রই বিরাজমান সান্নি দা। ভালো নাম বিবেক ব্যানার্জি। ক্লাব থেকে শুরু করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রাণ। ডানপন্থী দলের সমর্থক ছিলেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে ই দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। বহু বছর রাজনীতি করার পর কাউন্সিলর হয়েছিলেন। অবশ্য ই স্কুলের প্রাক্তনী দের গর্ব ছিলেন তিনি। দুস্থ দের সেবায় নিয়োজিত বিবেক ব্যানার্জি কাউন্সিলর হলেও কাজে কর্মে ত্রুটি ছিল না তার। সততা ছিল তার সম্বল। বলা বাহুল্য দুর্নীতি হীন এক কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত এই নাম। বিবেক ব্যানার্জি। ধাদকা স্কুলের ছাত্র। আসানসোলের 13 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। দলের জন্মলগ থেকে থাকলেও চাহিদা ছিল না কিছু ই।
বহু বছর পর কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজনীতির প্রেক্ষাপট ছাড়াও বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রায় 54 বছর বয়সী সান্নি দাদা তথা বিবেক ব্যানার্জি কলকাতায় শেষ নিঃশাস ত্যাগ করলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। উত্তর আসানসোলের ধাদকা নারায়ণ চন্দ্র লাহিড়ী বিদ্যামন্দিরের ছাত্র তথা ধাদকা ইউনাইটেড ক্লাবের একসময়ের সদস্য সান্নি দাদার জীবনাবসানে শোকাহত এলাকা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলা, বিনোদন সবেতেই যুক্ত থাকার ইতিহাস আজ ইতিহাস রয়ে গেল। কখনো দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের কালিপুজো, আবার কখনো মনীষীদের জন্মদিন পালন। রবীন্দ্র নজরুল সুকান্ত সন্ধ্যা অথবা নাটক মঞ্চস্থ করা।
ছাত্র জীবন টা ছিল মসৃন ইংরেজি মাধ্যম থেকে বাংলায় আসা
Read More – করোনার অবদান করোনা লকডাউন কে অভিনন্দন ছাত্রদের
বহু শিশুর শিক্ষা প্রাপ্তি তার হাত ধরেই। রাজনীতি তে প্রবেশের আগে বা রাজনীতিতে থেকে বহু মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন তিনি। বেঁচে থাকার রসদ ছিল আড্ডা। বাড়ির সামনেই আটা চাকির দোকানের সামনেই জনসেবা। মানুষের কাজ। আজ হয়ত সেই চেয়ারে দেখা যাবে না তাকে। আর হয়ত শোনা যাবে না সেই গম্ভীর গলার ডাক ” কোথায় যাচ্ছিস রে? সব ঠিক তো?” 9333109656 এ শোনা যাবে না বিবেকের গলা।
তবু থেকে যাবে সান্নি দার ভালোবাসা, জনসংযোগ। চিরসত্য – জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা রবে।
তা সত্ত্বেও এই বয়সে স্কুলের গর্ব এলাকার ছেলে বিবেকের চলে যাওয়া কে মেনে নিতে পারছে না অনেকেই। বিবেক হারালাম ? বিবেক কে হারালাম ? মৃত্য এখন অহরহ। করোনা মহামারীর সময় নিমেষে নিমেষে মৃত্যুর খবর। তবে বিবেক কে ছুঁতে পারেনি করোনা। দীর্ঘদিনের অসুস্থতাই কেড়ে নিল এক জনসেবায় নিয়োজিত প্রাণ কে। অনেক মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ। স্কুল বন্ধুদের শ্রদ্ধার্ঘ, আমাদের স্কুল ধাদকা এন সি এল বিদ্যামন্দিরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ, আসানসোল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের পক্ষ থেকে শেষ নিবেদন , পাড়ার আশীষ আরো কত কি !!!
https://youtube.com/shorts/JVSWrsSpVI8?feature=share
এলাকার মানুষের কথায় – পরিস্থিতি ঠিক থাকলে হয়ত স্কুল গ্রুপ, এলাকার লোক, ভালোবাসার মানুষের ভিড়ে শ্মশান ঘাটে জায়গা দেওয়া যেত না। তাও সবাই বলছে বিবেক কে হারানো যায় না। বিবেক আছে সবার মনে। বিবেক এর চলে যাওয়া দংশিত করছে বিবেক কে । এ কথা যেমন সত্য সে রকম বিবেক কে মনের মণিকোঠায় রাখলে আজীবন বেঁচে থাকবে বিবেকের বাণী ” অনেকটা ভালো আছি , ভালো থাকিস, সুস্থ থাকিস”…..

